ভাইবোনের সম্পর্ক হওয়া উচিৎ মিষ্টি মধুর

ভাইবোনের সম্পর্ক হওয়া উচিৎ মিষ্টি মধুর

অন্যতম মধুর সম্পর্ক হল ভাইবোনের সম্পর্ক। ছোটো থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া। কখনও দুষ্টুমি, কখনও বিপদে একে অন্যের সঙ্গ দেওয়া। ভাইবোনের সম্পর্কের কোনও মাপকাঠি হয় না। কোনও তুলনা চলে না। তবে তার জন্য দরকার ভাইবোনের মধ্যে গভীর ও মজবুত সম্পর্ক। বাবা-মায়ের পক্ষে এই কাজটা খুব একটা সহজ হয় না। বিশেষ করে যেসব বাচ্চারা ছোটো থেকেই বড় দাদা দিদি বা ভাইবোনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে না।

নিজেদের মধ্যে জারি রাখে প্রতিযোগিতা, একে অন্যকে নিয়ে দেখা দেয় হিংসা, হতাশা ও জ্বালা। ছোটোবেলায় ছেলেমানুষি বলে আপনি উড়িয়ে দিতেই পারেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তা কিন্তু সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তাই ছোটো থেকেই ভাইবোনদের মধ্যে যাতে সুন্দর ও মজবুত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, বাবা-মা হিসাবে আপনাকেই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ধৈর্য: বাচ্চাদের কিছু শেখানোর ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ধৈর্য রাখা খুব দরকার। বিশেষ করে বাচ্চাদের প্রতি সমান ব্যবহার করুন। বাবা-মায়ের থেকেই বাচ্চারা শিক্ষা পায়। আপনার সুন্দর ব্যবহারই তাদের শেখাবে নিজেদের ভালোবাসাকে ভাগ করে নিতে। একে অন্যের দোষ-গুণ মাফ করে ভাইবোনকে আপন করে নিতে।

ইতিবাচক প্রতিপালন: বাচ্চারা বাবা-মা ও বাড়ির বড়দের থেকে সবকিছু শেখে। তাঁদের যেমন ব্যবহার দেখে, বাচ্চারাও সেই মতো ব্যবহার করে। বিশেষ করে বড় বাচ্চারা ছোটো ভাই বোনদের প্রতি দাদাগিরি দেখানোর চেষ্টা করে। বড় হলেও যাতে ছোটো ভাইবোনের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই আপনার লালনপালনে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে। ছোটো থেকে বাচ্চার মনে যেন এমন ধারণা তৈরি না হয়, যে বাবা-মা, দাদা-দিদি বা ভাইবোনকে বেশি ভালোবাসে। বাবা-মায়ের কাছে সব সন্তানই সমান তা বুঝিয়ে দিন।

প্রতিযোগিতা: বাচ্চাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা ভালো। তবে তা কখনই যাতে নেতিবাচক রূপ না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রতিযোগী না হয়ে, একে অন্যের পাশে থাকার তালিম ছোটো থেকেই দিতে হবে বাচ্চাদের।

সবাইকে সমান চোখে দেখা: বড় বাচ্চাদের কথা শোনা হলেও ছোটোদের কথা অনেক সময় কান দেওয়া হয় না। এই ভেবে, যে বয়স কম তাই তাদের বোধগমও কম। কিন্তু এমনটা হলে ছোটো ও বড় বাচ্চার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

খেলাধুলো: বাচ্চারা একসঙ্গে মিলে খেলধুলো করলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়। তার জন্য আপনাকে কোনও খাটনিও করতে হবে না। ভাইবোনরা সহজেই একে অন্যের বন্ধু হয়ে উঠবে হাসি-মজায়।

বাড়ির পরিবেশ: বাচ্চাদের স্বভাব, আচরণ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবারের পরিবেশের একটা প্রভাব থাকে। পরিবারে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বাচ্চার মনেও বন্ধুত্বপূর্ণ মানসিকতা গড়ে তোলে।

ভালোমন্দের বিচার: যেটা ঠিক তাই যেন করে, বাচ্চাদের এটা শেখানো দরকার। তার জন্য যে সবসময় বাহবা দিতে হবে তা কিন্তু একেবারেই নয়। বরং সঠিক কাজ করাটাই যে উচিত, বাচ্চাদের তা বোঝাতে হবে। এর থেকে বাচ্চার সঠিক মানসিক বিকাশ ঘটবে। ভাইবোনের সম্পর্ককে সুন্দর ও মজবুত করে তুলবে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট