মর্নিং ওয়াক নিয়মিত  করা উচিত কেন জানেন?

মর্নিং ওয়াক নিয়মিত  করা উচিত কেন জানেন?

আজ নানা সব কোঠিন রোগের সঙ্গে পাঞ্জা লড়িয়ে বেঁচে রয়েছি আমরা। তার উপর শ্বাস নিচ্ছি তো শরীরে ঢুকছে বিষ ধোঁয়া, আর খাবারের নামে খাচ্ছি কেমিকাল। এমন পরিস্থিতিতে মোটা মেডিক্লেম পলিসি করার প্রয়োজন যে বেড়েছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন এত টাকা খরচ করার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিন সকালে উঠে ৩০ মিনিট খরচ করলেই শরীর থাকবে চাঙ্গা, জীবন হয়ে উঠবে রোগ মুক্ত। কীভাবে? সকাল সকাল উঠে ৩০ মিনিট ব্যয় করতে হবে হাঁটার পিছনে। এমনটা করলে শরীরে যে শুধু বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রবেশের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, এমন নয়, সেই সঙ্গে দেহের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। মিলবে আরও অনেক উপকার। তাই বাস্তবিকই যদি হাসপাতাল থেকে দূরে থাকতে হয়, তাহলে নিয়মিত আধ ঘন্টা মর্নিং ওয়াক করতে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, মর্নিং ওয়াক করার সময় আমাদের শরীরে নেগেটিভ আয়রনের মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আর এমনটা যখনই হয়, তখন বিশুদ্ধ অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে কোষেদের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক ভাবেই বৃদ্ধি পায়। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে কোষেরা যত শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তত ছোট-বড় সব রোগেরা দূরে থাকতে বাধ্য হয়। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন

১. রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে:

১. রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে:

বেশ কিছু গবেষণা করে দেখা গেছে সকাল সকাল নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করলে শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে শর্করার শোষণ ঠিক মতে হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ পায় না। এই কারণেই তো যাদের পরিবারে এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যাটা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে যে সারা বিশ্বের মধ্যে আমাদের দেশ ডায়াবেটিস ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মর্নিং ওয়াকের প্রয়োজন যে বেড়েছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

২. হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ে:

২. হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ে:

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে মর্নিং ওয়াকের অভ্যাস করলে সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে রক্তচাপও যেমন কমে, তেমনি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। প্রসঙ্গত, হাঁটাহাঁটি করলে হাঁর্টের আরেকভাবে উপকার হয়। কীভাবে? এক্ষেত্রে হাঁর্টের পাম্পিং ক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে। নিয়মিত তরমুজ খেলে ত্বকের কত উপকার হয় জানেন? কপালের ভাঁজ দূর করবেন কীভাবে জানা আছে? চটজলদি হালুদ দাঁতকে সুন্দর করে তুলবেন কীভাবে জানেন?

৩. ওজন হ্রাস পায়:

৩. ওজন হ্রাস পায়:

ওবেসিটি বা ওজন বৃদ্ধির সমস্যা ভারতীয়দের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও কিন্তু অনেক মারণ রোগ ঘারে চেপে বসার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। তাই সুস্থভাবে বাঁচতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বেজায় প্রয়োজন রয়েছে। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে মর্নিং ওয়াক। কারণ বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত সকালবেলা হাঁটার অভ্যাস করলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ হাঁটার সময় শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ধরে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন হওয়ার কারণে পুনরায় ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৪. আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপরোসিসের মতো রোগের প্রকোপ কমায়:

৪. আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপরোসিসের মতো রোগের প্রকোপ কমায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হালকা চালে একটু হাঁটাহাঁটি করলে জয়েন্টের সচলতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু এবং কোমরের ব্যথায় জর্জরিত হয়ে পরার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের মতো হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে। তাই বুড়ো বয়সে বিনা কষ্টে চলাফেরা করে বেরাতে চান যদি, তাহলে এখন থেকেই মর্নিং ওয়াকের অভ্যাস করতে ভুলবেন না যেন!

৫. মানসিক অবসাদের হাত থেকে রক্ষা মেলে:

৫. মানসিক অবসাদের হাত থেকে রক্ষা মেলে:

সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক সমীক্ষা রিপোর্টের উপর নজর ফেরালে জানতে পারবেন আমাদের দেশে কীভাবে মানসিক অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে এই সম্পর্কিত নানা রোগের প্রকোপও। এমন পরিস্থিতিতে মর্নিং ওয়াক করার প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ গবেষণা বলছে নিয়ম করে মর্নিং ওয়াক করলে মস্তিষ্কের অন্দরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, কমে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ মাত্রা। ফলে মন খারাপ দূরে পালাতে সময়ই লাগে না।

৬. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়:

৬. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়:

শুনে অবাক লাগলেও একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে মর্নিং ওয়াকের অভ্যাস করলে ওভারিয়ান, ব্রেস্ট, কিডনি এবং সার্ভিকাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। কারণ সকাল সকাল হাঁটাহাঁটি করলে শরীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে কোষেদের মিউটেশন হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও দেহের অন্দরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা যায় কমে।

৭. ব্রেন পাওয়ার বাড়ে:

৭. ব্রেন পাওয়ার বাড়ে:

গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় স্মৃতিশক্তি এবং মনযোগ ক্ষমতাও। ফলে পড়াশোন হোক কী কর্মক্ষেত্র, সবেতেই সফল হওয়ার সম্ভাবনা যায় বেড়ে। তাই সুস্থ শরীর পাওয়ার পাশাপাশি যদি জীবনে সফলতার শৃঙ্গে চড়তে চান, তাহলে নিয়ম করে মর্নিং ওয়াক করতে ভুলবেন না বন্ধু!

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট