মাকে দেখাতে কারাগারে তাজিন আহমেদের মরদেহ

মাকে দেখাতে কারাগারে তাজিন আহমেদের মরদেহ

মাকে দেখাতে অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের মরদেহ গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার ফটকে নেওয়া হয়েছে।বুধবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাফটকে নেওয়া হয় বলে জানান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার উম্মে সালমা।

তাজিনের মা দিলারা জলিকে চেক ডিজঅনার এর একটি মামলায় গত দুই বছর ধরে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় করাগারে বন্দি আছেন। তার একটি প্রোডাকশন হাউজ ছিল। মায়ের হাত ধরেই অভিনয় জগতে প্রবেশ তাজিনের।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সন্ধ্যায় উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি মসজিদে গোসল শেষে তাজিনের মরদেহ উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের রিজেন্ট হাসপাতালে রাখা হয়। সেখান থেকে রাত ১০টায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তার মরদেহ।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরার আনন্দ বাড়ি শুটিং স্পটে রাখা হয় তাজিন আহমেদের মরদেহ। সেখানে তার সহকর্মী ও শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই তাকে শেষ বারের মতো দেখতে আসেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত মরদেহ এখানেই রাখা হবে। এরপর বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজার পর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার বাবার কবরে তাকে দাফন করা হবে।

শেষবারের মতো মাকে দেখাতে তাজিনের মরদেহ কারা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ফটকে নেওয়া হয়। পরে তাজিনের মাকে কারাগারের ভেতর থেকে কারা ফটকে এনে মেয়ের মরদেহ দেখানো হয়। কিছু সময় পরেই আবার তাজিনের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজিন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে দুপুরের দিকে নিজ বাসায় তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। এরপর অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে।

জানা গেছে, যখন তাজিনের হার্ট অ্যাটাক হয় তখন বাসায় কেবলমাত্র একজন মেকাপ আর্টিস্ট ছিলেন। উনি তাজিনের সঙ্গেই থাকতেন। তিনিই তাজিনকে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

তখন হাসপাতালে তাজিনের সঙ্গে যান রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মম, হুমায়রা হিমু ও আরও অনেকে।

১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন তাজিন আহমেদ। তিনি বেড়ে উঠেছেন পাবনা জেলায়। ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন এ অভিনেত্রী। ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়। এরপর তিনি অসংখ্য নাটক-টেলিছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘নীলচুড়ি’তে অভিনয় করেও বেশ আলোচিত হন। তার সর্বশেষ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘বিদেশি পাড়া’। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন।

তাজিন আহমেদ আনন্দ ভুবন ম্যাগাজিনের কলামিস্টও ছিলেন তিনি। পরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গীত শিল্পী ও পরিচালক রুমি রহমানের সাথেই সংসার জীবনে আবদ্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ জীবনে একাকী জীবন কাটছিল তার।

মায়ের হাত ধরেই অভিনয়ে আসেন তাজিন আহমেদ। মা দিলারা জলির প্রোডাকশন হাউজ ছিল। তিনি দীর্ঘদিন থিয়েটারেও অভিনয় করেছেন। ‘নাট্যজন’ থিয়েটারের হয়ে বেশকিছু নাটকে তিনি অভিনয় করেন। এরপর ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের হয়ে ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে কাজ করেছিলেন। এতে তিনি বলাকা চরিত্রে অভিনয় করেন। তার সর্বশেষ অভিনীত মঞ্চনাটক এটি।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট