মাছ কেনার টিপস জানুন…

মাছ কেনার টিপস জানুন…

মাছে ভাতে বাঙালী। মাছ ভালোবাসে না এমন মানুষ কমই রয়েছে। অনেকেই আছেন যারা মাছ কিনতে মাছের বাজারে যেতে পছন্দ করেন না। তাই বলে মাছ খেতে একেবারেই ভালোবাসেন না এমন মানুষ পাওয়া সত্যিই অসম্ভব। আমরা অনেকেই বাজার থেকে মাঝে মধ্যে দোকানির তোষামদে পচা মাছটি কিনে ফেলি বিবেচনা করতে পারিনা। আসলেই কি মাছটা ভাল না-কি পচা। মাছ বাসায় আনলে গৃহিণীর রাগ বেড়ে যায় সেই পঁচা মাছটি দেখে। কারণ বাড়িতে আনতে আনতেই মাছের বরফ গলে মাছ তুলতুলে হয়ে গেছে। স্বামী কাজের চাপে বা নানা রকম সমস্যায় যে বিষয়গুলো মনে রেখে মাছ কেনা উচিত তা হয়ত খেয়ালই করতে পারেনি। মাছ কেনার সময় কিছু কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। জেনে নিন, কি সেই বিষয়গুলো? যেগুলো জানলে আর বাজার থেকে পচা মাছ কিনে খেতে হবে না।

কীভাবে বুঝবেন যে মাছটি তাজা? তাজা মাছের আঁশগুলো খুব চকচকে হয়। এর চোখ ভীষণ পরিষ্কার। অনেক সময় শুনে থাকবেন যে, মাছ তাজা কি না বোঝার জন্য কানখো উল্টে দেখতে হয় যে লাল লাল ভাব আছে কিনা। কারণ তাজা মাছের কানখোর ভিতরে লাল রক্তের মতো থাকে। তাই মাছ কেনার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, কানখো যেন সতেজ থাকে বা ঠিকঠাক থাকে এবং শুকনো না থাকে। মাছ হাতে নিয়ে দেখবেন এটি নরম কি-না। মাছ পচলে নরম হয়ে যায়। তাই নরম মাছ কিনবেননা। তাজা, টাটকা ও শক্ত মাছ দেখে কিনতে হবে। যে পাত্রটায় মাছ থাকবে সেই পাত্রের পানির দিক লক্ষ্য রাখতে হবে, পানি পরিষ্কার আছে কি না। কারণ তাজা মাছের পানি পরিষ্কার থাকবে।

এমন অনেক মাছ আছে যেগুলো অনেকেই খেতে পছন্দ করেন না। যেমন: হার্টের সমস্যা থাকলে বা হাঁপানির কোন সমস্যা থাকলে সেক্ষেত্রে তেলাপিয়া মাছ কখনও খাওয়া যাবেনা। কারণ তেলাপিয়া মাছে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক ফ্যাট থাকে। যার জন্য যাদের কোলেস্টরেল আছে তারা এটি খেতে পারবেনা। কারণ ক্ষতিকারক ফ্যাট কোলেস্টরোলের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। যে জন্য হার্টের সমস্যা, কোলেস্টরোল, হাপাঁনি রোগ যাদের থাকবে তারা এই ক্ষতিকারক ফ্যাট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মাগুর মাছ শরীরের জন্য খুবই উপকারী তবে সেটি যাদি ঠিক মতো বাজার থেকে কিনে আনতে পারেন। অনেকেরই শখ বাজারে গিয়ে বড় মাছ কেনার। বাজারে গিয়ে যদি দেখেন, বড় বড় মাগুর মাছ রয়েছে তবে সেগুলো নিয়ে আসেন। সেই মাছ ক্ষতিকারক। কারণ যারা মাছ চাষ করছেন তারা মাছ বড় করার জন্য হরমন ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। তাই বড় মাপের মাগুর মাছ না কিনে ছোট ছোট মাগুর মাছ কেনা উচিত।

মাছ কেনার কিছু টিপস: দোকনি পচা মাছ ধরিয়ে দেননি কিংবা মাছ কিনে হেরে আসেননি এমন মানুষ কিন্তু খুব কম খুঁজে পাওয়া যাবে। আজকাল সুপার সপ গুলোতেও এই একই কারবার চলে। যতই ফরমালিন বা রঙ দেওয়া হোক না কেন তাজা ও ঔষুধমুক্ত মাছ চিনে নেওয়া কিছু দারুণ কৌশল রয়েছে। এই টিপসগুলো জেনে নিলে আর কখনও পচা মাছ টাকা দিয়ে কিনতে হবে না।

১. টাটকা মাছ কখনও শক্ত হবে না আবার নরমও হবে না। তাজা মাছ হবে বাউন্সি। মাছ আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে যদি মাছ একদম শক্ত তবে সেটি ফ্রিজে রাখা ছিল। আর যদি আঙ্গুল দিলেই ঢেবে যায় তবে বুঝবেন মাছের বয়স হয়েছে। তাজা মাছে চাপ দিলে ঢেবে যাবে কিন্তু আঙ্গুল সরিয়ে নিলে ঠিক হয়ে যাবে।

২. তাজা মাছের চোখ সবসময় স্বচ্ছ হবে। একদম ঝকঝকে চোখ হবে, দেখলে মনে হবে মাছটি জীবন্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চোখ ঘোলাটে ও মৃত হয়ে আসতে থাকে। যত সময় যাবে মাছের চোখ ততই নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। ফরমালিন দিলে মাছের মাংস পচেনা ঠিকই কিন্তু চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হওয়া আটকানো যায়না। চোখ দেখেই তাজা মাছ চিনে নেয়া যায়।

৩. মাছের কানকো দেখাটা তাজা মাছ চেনার একটি ভালো উপায়। যদিও মাছের কানকোতে এখন রঙ মিশিয়ে রাখেন দোকানিরা। তাই শুধু কানকো দেখে মাছ কিনবেননা। তাজা মাছের কানকো হবে রক্তের রঙের। এতে পিচ্ছিল ভাব থাকবে।

৪. চোখ আর কানকো দেখার পর মাছের শরীর দেখতে হবে। মাছের শরীর কি চকচকে আর উজ্জ্বল রূপালী রঙের। সুপার শপের মাছগুলোতে রুপালী রঙের পরিবর্তে হলদে বা লাল আভা দেখা যায়। এতে বুঝে নিতে হবে যে, মাছটি অনেক দিনের পুরনো। টাটকা মাছ চকচক করবে, সময় যাওয়ার সঙ্গে চকচকে ভাব কমে ম্লান হয়ে যাবে। তা সে যতই ফরমালিন দেয়া হোক না কেন?

৫. টাটকা মাছের গন্ধ হবে পানির মতো। আর সামুদ্রিক মাছ হলে সমুদ্রের মতো। শসার গন্ধের সঙ্গেও মিল পেতে পারেন। যে মাছ থেকে বাজে গন্ধ আসবে সেটি তাজা মাছ নয়।

৬. শিং, মাগুর, শোল ইত্যাদি মাছ কিনতে গেলেও সাবধান। আজকাল দোকানিরা মরা মাছকেও তাজা বলে ধরিয়ে দেন। এসব মাছ যদি ট্যাঙ্কের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, ধরতে গেলে ছটফট করে তবে সেই মাছ কিনতে হবে। আগে থেকে বের করে ট্রেতে সাজিয়ে রাখা মাছ নয়।

৭. সুপার শপের কেটে রাখা মাছ কিনতে চান কি? তবে কাটা মাছের রঙ লক্ষ্য করতে হবে। তাজা মাছের মাংস হবে উজ্জ্বল রঙের। রঙ যত বিবর্ণ হবে মাছ তত পচা।

৮. বাজারে কেটে রাখা মাছ কিনবেন? ভালো করে লক্ষ্য করবেন, মাছের আশেপাশে কোন ফ্যাকাসে রঙের পানি আছে কি না। যদি থাকে তবে বুঝতে হবে মাছ ভালো নয়। তাজা মাছের আশেপাশে স্বচ্ছ পানি থাকবে।

৯. চিংড়ি মাছের খোসা যদি শক্ত আর ক্রিসপি থাকে তবে ওই মাছ তাজা। মাছ ভীষণ নরম আর নেতিয়ে পড়া হলে মাছ ভালো নয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট