মানবতাবিরোধী অপরাধে ৪ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধে ৪ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার মো. আকমল আলী তালুকদারসহ চার জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

১৬০ পৃষ্ঠা রায়ের প্রথম অংশ পাঠ করেন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। সেখানে একটি মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় অংশ পাঠ করবেন বিচারপতি আমির হোসেন এবং রায়ের মূল অংশ পাঠ করবেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

আকমল আলী তালুকদার (৭৬) ছাড়া বাকি তিন আসামি হলেন- আব্দুর নুর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া (৬২), আনিছ মিয়া (৭৬) ও আব্দুল মোছাব্বির। এ তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন।

গত ২৭ মার্চ এ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর দীর্ঘ প্রায় চার মাস পরে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর হায়দার আলী, সাইয়্যেদুল হক সুমন ও শেখ মুশফেক কবীর। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার। পলাতকদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আবুল হোসেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এরপর গত বছরের ৭ মে এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা করে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি এ বছরের মার্চ মাসে শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুম, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আনুমানিক ১০২টি পরিবারের ১৩২টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ছয় জনকে ধর্ষণ, সাত জনকে অপহরণ ও ৬১ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ওই চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রাম থেকে আকমল আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকিরা এখনো পলাতক।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট