মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট জামিনে মুক্ত

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট জামিনে মুক্ত

কারাগারে থাকা মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সৎ ভাই আব্দুল্লাহ ইয়ামিন পরাজিত হওয়ার পর রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তার নতুন জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়। ইয়ামিনকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে ৮০ বছর বয়সী গাইয়ুমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

১৯৭৮ সাল থেকে ৩০ বছর মালদ্বীপের ক্ষমতায় ছিলেন গাইয়ুম। ২০০৮ সালে মালদ্বীপে বহু দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। বিজয়ী হন মোহাম্মদ নাশিদ। মালদ্বীপে গাইয়ুমের দীর্ঘ শাসনকালে বেশ কয়েকবার নাশিদকে কারাবন্দি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে এক বিচারপতিকে আটকের সিদ্ধান্তে ক্ষোভের মুখে পড়েন নাশিদ। পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি। পদত্যাগের পরপরই তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়গ্রহণের মধ্য দিয়ে গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হন নাশিদ। ২০১৩ সালে সৎ ভাই ইয়ামিনকে নির্বাচনে জয়লাভে সহায়তা করেন গাইয়ুম। তবে পরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় এবং তারা দুইজন তিক্ত রাজনৈতিক শত্রুতে পরিণত হন। ইয়ামিনকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ। ১৭ নভেম্বর শপথ গ্রহণ করবেন তিনি। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে সোলিহ আহ্বান জানিয়েছেন, যেন সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরাজিত হওয়ার পর পাঁচ রাজবন্দিকে মুক্তি দিলেও গাইয়ুমকে মুক্তি দিতে বিলম্ব করছেন ইয়ামিন। নির্বাচনের পর জামিনের জন্য নতুন করে আবেদন করেন গাইয়ুম ও তার ছেলে। রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মালদ্বীপের হাইকোর্ট ৬০ হাজার রুফিয়া (৩,৯০০ ডলার) মুচলেকা নিয়ে গাইয়ুমকে জামিন দেয়। আদালতের অনুমতি ছাড়া তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

টুইটারে গাইয়ুমের মেয়ে ইয়ুমনা মাউমুন লিখেছেন, ‘অবশেষে, তারা সবাই এখন বাড়িতে। আশা করি এবং প্রার্থনা করি শিগগিরই সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। ইনশাল্লাহ অবশেষে দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি ঘটছে। এ দিনটির জন্য যারা কঠোর সংগ্রাম করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট