মিটিং চলার সময় ঘুমিয়ে পড়া থামাবেন যেভাবে

মিটিং চলার সময় ঘুমিয়ে পড়া থামাবেন যেভাবে

অফিসের  মিটিং কারো জন্যই আনন্দদায়ক নয়। মিটিংয়ে নিজের অজান্তেই মাঝে মাঝে চোখের পাতা ভার হয়ে আসে। দেখা যায় এ সময় জরুরি কোন আলোচনা হলে ঘুমের কারণে তাতে মনোযোগ দেয়া যায় না।

তাই এ সমস্যা এড়াতে আসুন বিবিসি বাংলার এক প্রদিবেদন অনুযায়ী চট করে জেনে নেই মিটিংয়ে ঘুমিয়ে না পড়ার কিছু উপায়-

. মিটিংয়ের সঠিক সময় নির্বাচন- দিনের শুরুতে সকালে যেকোন কাজে মানুষের আগ্রহ, মনোযোগ সবই থাকে ভরপুর। তাই মিটিং সকালে ডাকাই শ্রেয়। আর দুপুরে খাবারের পরপর সময়টাতো একেবারে ‘ডেড জোন’ বা ‘নিষ্প্রাণ সময়’। এসময়ে মানুষ ক্লান্ত থাকে তাই কুক্ষণে কোনো মিটিং না ডাকাই শ্রেয়।

আবার বলা যায় মানুষ আসলে ক্লান্ত হয়ে মিটিংয়ে ঘুমায় না। বরং এক ঘেয়েমি আর বিরক্তি থেকে ঘুমায়।

. সঠিক স্থান- মিটিংয়ের জন্য স্থানেরও একটি আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। সচরাচর যে জায়গায় মিটিং হয় না হঠাৎ তেমন জায়গায় মিটিং ডাকলে মানুষের মধ্যে একটা সতর্ক ভাব কাজ করে। তাছাড়া, ‘স্ট্যান্ডিং মিটিং’ বা দাঁড়িয়েই মিটিং সেরে নেবার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয় কখনো-কখনো।

. সঠিক প্রস্তুতি- মিটিংয়ে ঘুমিয়ে না পরার জন্য প্রস্তুতিও একটা ব্যাপার বটে। যারা ঘুমিয়ে পরার মতন অবকাশ পেতে পারে তাদেরকে না ডাকাই শ্রেয়। অর্থাৎ মিটিংয়ে যাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অতি আবশ্যক শুধু তাদেরকেই ডাকা যুক্তিযুক্ত। দরকার না থাকলে মিটিংয়ে এসে বসে থাকার কোনো মানে হয় না।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, মার্কিন কর্মীরা মনে করেন যে তাদের নেতাদের মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ মিটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসে।

. মিটিংয়ে হালকা একটু নাশতা- মিটিংয়ে হালকা একটু নাশতা দিলে এটি একদিকে কর্মীদের প্রতি কর্তৃপক্ষের মনোযোগ দেয়ার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে এতে, ঘুমও কাটানো সহজ হয়।

. মিটিংয়ে সম্পৃক্ততা বোধ করা – কোনো আলোচনায় কেউ যদি সত্যিই সম্পৃক্ত হয়ে যায় তার পক্ষে ঘুমিয়ে পড়া মুশকিল। তাই মিটিংয়ে কথা বলার মাধ্যমে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার দিকটি তুলে ধরা হয়। আর কথা না বলেও অনেক সময় ঘাড় নাড়িয়ে বা হাত নাড়িয়ে ইশারা-ইঙ্গিতেও মিটিংয়ের বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়ে সম্পৃক্ত রাখা যায়। আবার ঘুম তাড়াতে মিটিংয়ের নোট নেয়াও একটা ভালো পন্থা হতে পারে।

. হালকা একটু নাড়া-চাড়া- আর কোনো উপায়েই যদি ঘুমকে ঠেকিয়ে রাখা না যায়, তাহলে কোনো উপায়ে অন্তত নিজের হাতগুলোতে ব্যস্ত রাখুন। আর তা করতে না পারলে, অন্তত নিজের গায়ে একটা চিমটি কেটে দিন। তাতেও ঘুম-ঘুম ভাবটা কাটবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

যদি সব উপায় ব্যর্থ হয়

সব রকম চেষ্টা করার পরেও যদি ঘুমকে ঠেকিয়ে রাখা না যায়, যদি ঘুমে আপনি একেবারে নিমজ্জিত হয়ে যেতে থাকেন তাহলে বরং কোন একটা ছুতো ধরে উঠে চলে যান। মিটিংয়ে মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে নিঃশব্দে চুপচাপ বেরিয়ে গেলে ঘুম থেকে হয়তো মুক্তি মিলতে পারে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ