মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন বিদ্বেষী প্রচারণা ও ঘৃণার ফল: অ্যামনেস্টি

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন বিদ্বেষী প্রচারণা ও ঘৃণার ফল: অ্যামনেস্টি

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ‘জাতিগত নিধন’ নির্যাতনযজ্ঞকে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এবং বিশ্বনেতাদের ‘ঘৃণার ফল’ বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) লন্ডনে ১৫৯টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটির প্রকাশিত ‘দ্য স্টেস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’স হিউম্যান রাইটস’- শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, “বিশ্বনেতাদের ছড়িয়ে দেয়া ঘৃণা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ সিরিয়া ও মিয়ানমারে সংখ্যালঘু নির্যাতন উস্কে দিয়েছে। মিয়ানমারের পাশাপাশি ইরাক, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনেও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হয়েছে।”

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠী বলেন, “মার্কিন সরকার কয়েকটি মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ফলে নেতারা যে ঘৃণার রাজনীতি শুরু করেছেন তা আজ এক বিপজ্জনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।”

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ না হওয়ায় বিশ্বনেতাদের দায়ী করে তিনি বলেন, ঘৃণা ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের বলিরপাঁঠা বানিয়ে জাতিগত নিধন চালানো হয়েছে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য শিগগিরই মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের তালিকা প্রকাশ করবেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, গত বছর ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের শুরু পর ৬ লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ ছাড়া প্রায় ৬৫০০ রোহিঙ্গা শূন্যরেখায় আটকে আছে।

এর আগে, অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এখনও যেসব রোহিঙ্গা মুসলমান রয়ে গেছেন তাদেরকে অনাহারে মারা হচ্ছে। তাদের জন্য এখন এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তারা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। দেশটির সেনাবাহিনী এ নির্মমতার সঙ্গে জড়িত।

অ্যামনেস্টি বলেছে,মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের সম্পদ লুট করছে; তাদের অপহরণ করছে; নারী-পুরুষ-শিশুকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করছে। এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য,এই গোষ্ঠীর জন্য এমন একটি অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট