‘মুমিনুলের বাদ পড়া একটু দুর্ভাগ্য বলবো’

‘মুমিনুলের বাদ পড়া একটু দুর্ভাগ্য বলবো’

তামিম ইকবাল দেশসেরা ওপেনার। তিন ফরমেটের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক রানের মালিক তিনি। সাকিব আল হাসান শুধু দেশই নয় বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডারদের একজন। এমন দু’জন যখন দলে না থাকে তখন চ্যালেঞ্জতো থাকবেই। সেটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোক আর জিম্বাবুয়ে। বরং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই চ্যালেঞ্জটা বেশি। কারণ আইসিসির টেস্ট ও ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা বাংলাদেশের নিচে। যে কারণে হারলে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা। তাই দেশের দুই সেরা ক্রিকেটারকে ছাড়া চ্যালেঞ্জই দেখছেন জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তবে দলে যারা নতুন এসেছে বিশেষ করে তরুণদের নিয়ে সাবেক এই অধিনাকের দারুণ আশা।

তিনি তরুণদের জন্য এই সিরিজকে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন। ওয়ানডে দল নিয়ে তিনি বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দেখছিলাম, দল হিসেবে তারা এখন অনেক ভালো। অনেক গোছানো দল। এই সিরিজটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ আমাদের দু’জন বড় পারফর্মার (সাকিব-তামিম) খেলতে পারছেন না। পারফর্মেন্সের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতার অভাবটাও অনুভব করবো এই সিরিজে। এটা তাই নতুনদের জন্য একটা সুযোগ। সামনে বিশ্বকাপ আছে। আমাদের কিছু প্লেয়ারকে দেখার বিষয় ছিল।’

সাকিব-তামিম জাতীয় দলের হয়ে বেশি সময় ধরে খেলে যাচ্ছেন। এখনো তাদের বিকল্প তৈরি হয়নি তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে পাইপ লাইনের ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম নয়। দেশের দুই সেরা ক্রিকেটার না থাকায় সুযোগ এসেছিল একেবারে নতুনদের দেখে নেয়ার। কিন্তু সেটিও করা যাচ্ছে না। কারণ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারলে খোয়া যাবে রেটিং পয়েন্ট।

এ বিষয়ে বাশার বলেন, ‘যদি সাকিব-তামিম খেলতে পারতো তাহলে একদম নতুন কিছু ক্রিকেটারকে খেলানো যেত, কিন্তু সেটা হচ্ছে না। তাই আমাদের অভিজ্ঞতার দিকেও তাকাতে হচ্ছে। দলের সেরা কম্বিনেশন ও অভিজ্ঞতার দিকেও দেখেছি আমরা। সব মিলিয়ে আমি আশাবাদী। আমার মনে হয় আমাদের দলের সেরা একাদশটা খারাপ না। যারা বাইরে আছেন তারা যথেষ্ট ভালো খেলছেন এবং অনেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসেছেন। আমি আশাবাদী, এই সিরিজটা ভালোই হবে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে একমাত্র নতুন মুখ ফজলে রাব্বি মাহমুদ। হঠাৎ করেই ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে দলে টেনেছেন নির্বাচকরা। ৩০ বছর বয়সী ক্রিকেটারদের দলে ডাকার খুব একটা নজির নেই বাংলাদেশের নির্বাচকদের। তাই প্রশ্ন কেন রাব্বি?

এ বিষয়ে বাশার বলেন, ‘ওর ক্যারিয়ারটা কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং। সে আমাদের এইচপি স্কোয়াডে ছিল, পাঁচ ছয় বছর আগে। তখন কিন্তু খুবই প্রমেসিং স্টার ছিল। তারপর অফ ফর্মে চলে গিয়েছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানে ছিল। কিন্তু শেষ তিন বছর ধরে সে অনেক বদলে গেছে। ওর খেলায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। সে এখন অনেক পরিণত। ‘এ’ দলের সফরগুলোতে দেখেছি, খুব ভালো ব্যাটিং করছে। বয়সটা একটু বেশি হয়ে গেছে, আমরা এমন খুব কম দেখি। কিন্তু ওর ফিটনেস খুব ভালো। সে একজন ফিট ক্রিকেটার, আর আমাদের এমন একজন ব্যাটসম্যান দরকার, ঠিক সাকিব আল হাসানের মতো না হলেও যে বোলিং করতে পারে। আমরা দেখেছি, ওর বোলিংটাও বেশ কার্যকরী। সেই বিবেচনায় এসেছে। আর আমার মনে হয় এখনকার প্রেক্ষাপটে ৩০ বছর খুব একটা বেশি না।’

অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে ঘরের মাঠে ওয়ানডে দলে জায়গা হয়নি মোসাদ্দেক হোসেন ও মুমিনুল হক সৌরভের। যদিও তাদের রাখা হয়েছিল এশিয়া কাপের দলে। কিন্তু সেখানে তারা যতটুকুই সুযোগ পেয়েছেন তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। মূলত এই কারণেই দু’জন বাদ বলে জানান জাতীয় দলের এই সহযোগী নির্বাচক।

তিনি বলেন, ‘মুমিনুলের বাদ পড়া একটু দুর্ভাগ্য বলবো, তার জন্য আমার সহানুভূতি। আমি মনে করি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার কখনই শেষ হয়ে যায়নি। আমার মনে হয় ওয়ানডেতে তার দেয়ার অনেক কিছুই আছে। কিন্তু আমাদের কিছু ক্রিকেটারকে দেখতে হতো। এটা আমাদের সুযোগ, কিছু খেলোয়াড় দেখে নেয়া। আর মোসাদ্দেকের ফর্ম নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নই। যেখানে সে ব্যাট করছে, সাত নম্বরে, সেখানে সে কার্যকরী ব্যাটিং করতে পারছে না। তাকে ব্রেক দেয়া হচ্ছে। আশা করি সে ঘরোয়া ক্রিকেটে রানে ফিরবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট