মুশফিকের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬১

মুশফিকের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬১

ব্যাটিং পাওয়ার প্লে তে ইনিংসের প্রথম ওভারে বয়ে গেছে মালিঙ্গা ঝড়। ৫ম বলে ডিফেন্স করতে যেয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন, পরের বলে সুইং না বুঝে মিড অনে খেলতে যেয়ে সাকিব বোল্ড !

পরের ওভারে লাকমালকে পুল করতে যেয়ে বাঁ হাতের কব্জিতে পেলেন চোট তামীম। নিয়ে যাওয়া হলো তাকে হাসপাতালে ! স্কোরশিটে ১ রান উঠতে নেই ২ উইকেট, তার উপর তামীমের রিটায়ার্ড হার্টে তাকে বাদ দিয়েও হিসেবটা করতে হচ্ছে।

তাও আবার স্কোরশিটের চেহারা যখন ২ রান !  ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র প্রথম ১০ ওভারে স্কোর ২৪/২ ! এমন বিপর্যস্থ চেহারার দলকেই কি না ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন মিঠুন,মুশফিক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩১ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন তারা বাংলাদেশ দলকে।

ইনজুরিতে শেষ হয়ে গেছে তামীমের এশিয়া কাপ, ক্রিকইনফোর এমন নিউজ ভুল প্রমান করে তামীম নেমেছেন ব্যাটিংয়ে, হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে।  সবার শেষে।  সেই দলই শেষ পর্যন্ত স্কোর করেছে ২৬১/১০।

৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আগে ফিল্ডিং করে ক্লান্ত হতে কে চায় ? তাই টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেননি মাশরাফি। তক্তা উইকেটে রানের ফুলঝুরিই কামনা করেছে সবাই। তবে বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মালিঙ্গা (১০-২-২৩-৪)। প্রথম স্পেলে ভুমিকম্প ( ৪-১-৮-২)। তবে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে পাড়ি দিয়ে, শুরুতে মিঠুন-মুশফিক চারবার লাইফ পেয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে এনেছেন ফিরিয়ে।

মিঠুন কামব্যাক ওয়ানডে ম্যাচে পেয়েছেন ফিফটি ( ৬৮ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৬২)। তার সঙ্গে দারুন পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া মুশফিক এদিন ঠিকই দিয়েছেন দলকে ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন দূর্যোগময় পরিস্থিতিতে।

মালিঙ্গার ইয়র্কারে ব্যাট-প্যাডে বলের আঘাত না দেখে আম্পায়ার রুবেলকে দিয়েছিলেন যখন এলবিডাব্লু, তখন ৯৬ এ দাঁড়িয়ে মুশফিকের সেঞ্চুরির আশা ছেড়ে দেয়ারই কথা। রুবেলকে ফিরিয়ে এনে রিভিউ নিয়ে জিতেছেন। লাকমালকে থার্ডম্যান দিয়ে বাউন্ডারিতে ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ন করেছেন তিনি ১২২ বলে।

স্লগে পাননি কাউকে। তারপরও দলের স্বার্থে এক হাতে ব্যাট নিয়ে নেমে দিয়েছেন তামীম তাকে সঙ্গ।  সর্বশেষ ১৩ ওয়ানডে ম্যাচে ৪ ফিফটি,২ সেঞ্চুরি।  ১১ মাস পর মুশফিকুরের সেঞ্চুরিটি আবার তার ক্যারিয়ার সেরা। ইতোপূর্বের ১১৭ ছাড়িয়ে ১৪৪ ( ১৫০ বলে ১১ চার, ৪ ছক্কা)। শেষ জুটিতে ১৬ বলে ৩২ !

এক কথায় অবিশ^াস্য। যে ৩২ রানের সব রানই মুশফিকুরের ব্যাট থেকে। পেরেরাকে শেষ ওভারের প্রথম ২ বলে ছক্কা মেরে তৃতীয় প্রচেষ্ঠায় লং অনে ধরা পড়েছেন। তবে মুশফিক বীরত্ব,আর ভাঙ্গা কব্জিতে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে তামীমের সাপোর্টটা সত্যিই বাহাবা পাওয়ার দাবি রাখে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট