মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল আইন পাস

মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল আইন পাস

বিমান পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেললে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘বেসমারিক বিমান চলাচল বিল-২০১৭’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দেওয়া সদস্যদের জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। গত ৩ মে বিলটি সংসদে তোলার পর পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনও ব্যক্তি এমন কোনও কাজ করেন, যাতে নির্বিঘ্নে বিমান পরিচালনায় অসুবিধা সৃষ্টি হয় ও মানুষের জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়, তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।’ এ ধরনের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিমান চালানোর অনুমতির বিধান লঙ্ঘন বা সনদ জাল করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। বিমানের নেভিগেশনের সঠিক আলো ও সংকেতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। কেউ দুর্ঘটনায় পড়া বিমানের যন্ত্রাংশ বা অন্য কোন কিছু সরিয়ে ফেললে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অপসারিত যন্ত্রাংশের দ্বিগুণ মূল্যে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কেউ বিমান ভ্রমণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিপজ্জনক পণ্য বহন করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়বেন। বিপজ্জনক পণ্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘এমন কোনও দ্রব্য বা বস্তু, যা স্বাস্থ্য, সম্পত্তি বা পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে অথবা এসবের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যেসব পণ্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেগুলোও এই তালিকায় থাকবে।’ বিলে অবৈধভাবে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের জন্য তিন থেকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কোনও এয়ার অপারেটর রেকর্ড সংরক্ষণ না করলে তিন বছররে সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনও পাইলট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভূমি বা পানিতে অবস্থানকারী কোনও ব্যক্তি বা সম্পত্তির ওপর দিয়ে বিপজ্জনক পদ্ধতিতে বিমান চালনা করেন এবং তিনি যদি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন যে, এভাবে বিমান চালানো তার প্রত্যক্ষ ত্রুটি বা ব্যর্থতার কারণে হয়নি তবে ওই পাইলট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘১৯৬০ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে বাংলায় নতুন আইন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য নতুন আইনে কিছু বিষয় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।’

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক