মেগানকে বর্ণবিদ্বেষী ব্যঙ্গ মার্কিন নেতার

মেগানকে বর্ণবিদ্বেষী ব্যঙ্গ মার্কিন নেতার

ব্রিটিশ রাজকুমার হ্যারির বাগদত্তা মেগান মার্কেলের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরে টুইটারে অ্যাকাউন্ট খোয়ালেন মার্কিন রাজনীতিবিদ পল নেলেন।

শুক্রবার নিজের টুইটারে হ্যারি ও মেগানের একটি ছবি পোস্ট করেন রিপাবলিকান নেতা পল। যেখানে কম্পিউটারে কারিকুরি করে মেগানের মুখে বসানো হয়েছিল ব্রিটেনের আদিমানব, কালো চামড়ার ‘চেডার ম্যান’-এর মুখের আদল। সঙ্গে লেখা, ‘‘এই সম্পর্কের জেরে কি আমার মুখটা আরও একটু ফরসা দেখাবে?’’

মার্কিন অভিনেত্রী মেগান নিজেকে মিশ্র জাতির মানুষ বলেই দাবি করেন। তাঁর বাবা শ্বেতাঙ্গ ও মা কৃষ্ণাঙ্গ। ১৯ মে বিয়ের দিন ঘোষণা করেছেন হ্যারি ও মেগান। তার মধ্যেই পলের এই মন্তব্যে নেটদুনিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। সোমবার টুইটার জানায়, বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে পলের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তাতে অবশ্য একটুও দমেননি পল। ঠিক আগের দিনই ফেসবুকে তিনি বলেছিলেন, ‘‘বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার নামে যে ভাবে সাদা চামড়ার মানুষের উৎপত্তি এবং অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা মোটেই হাস্যকর নয়। তাই মজা করেই প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলাম।’’

গত সপ্তাহে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের একটি যৌথ গবেষণায় দাবি করা হয়, ব্রিটেনের প্রথম মানুষ সাদা চামড়ার কেউ নন। এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আসা খয়েরি চামড়ার মানুষই ব্রিটেনের প্রথম বাসিন্দা। ১৯০৩ সালে ইংল্যান্ডের সমারসট এলাকায় একটি গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় দশ হাজার বছরের পুরনো একটি জীবাশ্মের ডিএনএ পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এই তথ্য জানান। ওই জীবাশ্ম ‘চেডার ম্যান’ নামেই পরিচিত। ওই গবেষণাপত্র প্রকাশের পর পরেই পলের এই টুইটার ব্যঙ্গে তাই বর্ণবিদ্বেষের সুর স্পষ্ট।

সোমবার তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রসঙ্গে রিপাবলিকান এই নেতা বলেন, ‘‘সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিয়ে এ ভাবে ভোটের আগে দলের ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক ভাবে কণ্ঠরোধের চক্রান্ত চলছে।’’ বর্তমানে আমেরিকায় হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস-এ আসন্ন স্পিকার নির্বাচনে বর্তমান স্পিকার পল রায়ানের বিরুদ্ধে লড়ছেন নেলেন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট