মোদির ইসরাইল সফর: নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পাকিস্তান

মোদির ইসরাইল সফর: নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পাকিস্তান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিন দিনের ইসরাইল সফরকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার থেকে মোদি এ সফর শুরু করেছেন এবং অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল ও ভারতের গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘যুগান্তকারী’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

তেল আবিব পৌঁছালে মোদিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার সব সদস্য বেনগুইরন বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। এটি হচ্ছে অনেকটা নজিরবিহীন ঘটনা কারণ এর আগে এ ধরনের অভ্যর্থনা কেবলমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টকেই দেয়া হতো।

ইসরাইল ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছরপূর্তিতে নরেন্দ্র মোদি তেল আবিব সফর করছেন এবং এটা হচ্ছে ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রথম ইসরাইল সফর। এ সফরে দু পক্ষ অন্তত ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি করবে। বিষয়টিকে পাকিস্তান খুবই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কারণ ইসলামাবাদ মনে করছে মোদির সফরের সময় যে অস্ত্র চুক্তি হবে তাতে এ অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এর আগেও ইসরাইল ভারতকে নানা রকমের অস্ত্র সরবরাহ করেছে তবে তা ছিল অনেকটা গোপনীয় বিষয় কিন্তু এখন দু পক্ষই অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে অনেকটা প্রকাশ্য অবস্থান নিচ্ছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম বলছে, দ্বিপক্ষীয় কোনো সফর সম্পর্কে ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করে না তবে মোদির ইসরাইল সফরের বিষয়টিতে ঘনিষ্ঠভাবে দৃষ্টি রাখছে। ইসলামাবাদ মনে করছে, আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভারসাম্যে এ সফর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমজাদ শোয়েব বলছেন, ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার অত্যধুনিক কিছু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হাতে পাচ্ছে ভারত। তিনি বলছেন, ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে বেড়ে চলা সম্পর্কের ভেতরে সফর পাকিস্তানের জন্য শিক্ষা রয়েছে।

এছাড়া, কায়েদে আযম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ড. জাফর নওয়াজ জসপাল বলেন, ভারত এবং ইসরাইলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বেড়ে চলার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি মনে করছেন, ইসরাইলের সহযোগিতায় ভারত তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করতে পারে। ফলে পাকিস্তানও বিকল্প পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

মোদির সফর সম্পর্কে ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপক এভাবে একটি টক শো শুরু করেছেন- “ভারত হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের শিকার। ইসরাইলও সন্ত্রাসবাদের শিকার এবং পাকিস্তান হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রভূমি।”

নরেন্দ্র মোদিও সফরের আগে ইসরাইলের একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ভারত ও ইসরাইলের জন্য সন্ত্রাসবাদ হচ্ছে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং এ সফরের মাধ্যমে নয়াদিল্লি ও তেল আবিব আরো ঘনিষ্ঠভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে পারে।”

মোদির সফরের আগে ইসরাইলের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা তার ভাষায় বলেছেন, পাকিস্তান থেকে চালানো সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ইসরাইল ভারতের পাশে থাকবে এবং বিনিময়ে কোনোকিছু চাইবে না।

পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আলী সারওয়ার নাকভি মনে করেন, ভারতের গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে বাড়তি প্রচারণা চালিয়ে পাকিস্তানকে আচ্ছন্ন করে রাখার চেষ্টা করছে। নরেন্দ্র মোদি কোথায় গেলেন সেটা কোনো বিষয় নয় কারণ ভারত সবসময়ই পাকিস্তানকে একঘরে করার চেষ্টা করেছে। নাকভি বলেন, এ মুহূর্তে পাকিস্তানের দিকে ইসরাইলের দৃষ্টি নেই; মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তেল আবিব ব্যস্ত; তবে মোদির এ সফরের একটা প্রভাব পাকিস্তানের ওপরও আসবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট