ময়মনসিংহে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ময়মনসিংহ বিভাগে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে। এতে শিল্পকারখানা স্থাপিত হবে। বিনিয়োগ বাড়বে। ফলে যুব সমাজের কর্মসংস্থান হবে।

শুক্রবার ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষকে নির্যাতন করে না, দেশের মানুষের জন্য দেশের উন্নয়ন করে।

অপর দিকে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সব উন্নয়ন থেমে যায়। তারা আগুন-সন্ত্রাসের রাজনীতি করে। তারা গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে বলে দাবি করেন তিনি।

ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিক্ত আমি, সিক্ত আমি দেওয়ার কিছু নাই- আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই’। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ময়মনসিংহবাসীর ভোট চেয়ে এভাবেই বক্তৃতা শেষ করেন তিনি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। দারিদ্র সীমা এখন যে অবস্থায় আছে, তার থেকে থেকে আরও ৫-৬ ভাগ কমিয়ে আনবো। ২০২০ থেকে ২০২১ সাল, বছরটিকে আমরা ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেছি। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ।

উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তুলে ধরে ময়মনসিংহবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকবো না। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। শত বছরে বাংলাদেশে কিভাবে গড়ে উঠবে, সে পরিকল্পনাও আমরা নিয়ে রেখেছি। ২১০০ সালের বাংলাদেশ কিভাবে উন্নত হবে সে পরিকল্পনাও আমাদের নেওয়া আছে।

তিনি যোগ করেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রয়োজন নৌকাকে আবারও ক্ষমতায় আনা। আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন, নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। আমার আর কোন চাওয়া নেই, আপনাদের সেবা করাই আমার কাজ। আপনারা কিভাবে সুন্দর ভাবে বাঁচবেন, সেটা নিয়েই আমি, আমার দল এবং সরকার কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ শুধু নামমাত্র বিভাগ হবে না, একটি বিভাগের জন্য যেগুলো সুযোগ-সুবিধা, সরকারি দপ্তর প্রয়োজন তার ব্যবস্থা আমি করে দিচ্ছি। শুরু হতে যাওয়া প্রকল্প গুলো শুরু হলে বেকাররা কাজ পাবে, বেকারত্ব দূর হবে; কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এসময় তিনি নব গঠিত ময়মনসিংহ বিভাগে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র সমাবেশে উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন। এ সফরে সরকার প্রধান ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনায় ১০১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯৪ টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া-জিয়াউর রহমান ওই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার যেন না হয় সে জন্য তারা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছে। যারা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, সন্তান হারা শোকাতুর মাকে সান্তনা জানতে দেয়নি; মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে….আমরা (শেখ হাসিনা ব্যতিত আওয়ামী লীগ নেতা) তাদের সঙ্গে কখনও সংলাপ চাইনি।

বঙ্গবন্ধু কন্যার উদারতায় এ সংলাপ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনি কতটা উদার….আকাশের মত উদার, আপনার হৃদয়ের গভীরতা কতো হলে আপনাকে যারা হত্যা করতে চেয়েছিল; আপনার পিতার হত্যাকারীদের পুনর্বাসিত করেছিল, আপনার হৃদয়ের মহানুভবতা দিয়ে দেশের স্বার্থে-গণতন্ত্রের স্বার্থে গণভবনে তাদেরকে সংলাপে ডেকেছেন।

আওয়ামী লীগ কারও কাছে নতি-স্বীকার করে সংলাপে বসেনি বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার দরজা সবার জন্য খোলা।

দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহের স্বীকৃতির পর এটাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। অবশ্য, বছরের শুরুতে ৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ সফরে আসার কথা ছিলো বঙ্গবন্ধু কন্যার, পরে তা ১১ অক্টোবর নির্ধারিত হয়। দ্বিতীয় দফায়ও তা বাতিল হয়।

এর আগে, ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহে এসেছিলেন।

এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন ময়মনিসংহ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট