যন্ত্রণা উপেক্ষা করে এক হাতে ব্যাটিং করেছেন যাঁরা (ভিডিও) 

যন্ত্রণা উপেক্ষা করে এক হাতে ব্যাটিং করেছেন যাঁরা (ভিডিও) 

কব্জির হাড়ে চিড়! আরও একবার চোট মানে বড় বিপদের আশঙ্কা৷ সেসবকে পাত্তা না দিয়েই দাঁতে দাঁত চেপে শনিবার এক হাতে ব্যাট করলেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল৷

তাঁর লড়াইকে কুর্ণিশ জানিয়েছে ক্রিকেট ভক্তরা৷ দলের স্বার্থে তামিমের এই লড়াই দেখে মনে পড়বে ভাঙা চোয়ালে ব্যান্ডেজ বেঁধে কুম্বলের হার না মানা লড়াই৷ কিংবা ভাঙা হাতে দক্ষিণ অাফ্রিকান অধিনায়ক গ্রেম স্মিথের ব্যাটিং৷ স্ক্যান রিপোর্টে চিড় ধরা পড়েছে মানে ছয় সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেলেন বাংলাদেশি ওপেনার৷ কিন্তু তার আগেও দেশের জন্য বাইশ গজে যে লড়াইয়ের উদাহরণ রেখে গেলেন তা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য৷

শুধু তামিম নয়, অতীতে আরও অনেক ব্যাটসম্যানকে এক হাতে এমন লড়াই করতে দেখা গিয়েছে৷ এক নজরে দেখে নেওয়া যাক যন্ত্রণা উপেক্ষা করে এক হাতে ব্যাটিং করেছেন যাঁরা৷

গ্রেম স্মিথ- দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ককে ক্রিকেট দুনিয়ায় বলা হয় ‘ব্রেভেস্ট ম্যান’৷ ২০০৯ এর সিডনি সাক্ষী ছিল স্মিথের ভাঙা হাতের লড়াইয়ের৷ প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় অস্ট্রেলিয়ার মিচেল জনসনের একটি বাউন্সারে ডানহাতের কনুই ভাঙে স্মিথের৷ তড়িঘড়ি মাঠ ছাড়েন প্রোটিয়া ক্রিকেটার৷ স্ক্যানের পর হাড়ে চিড় ধরা পড়ে৷ দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতে তাই ব্যাট করা হয়নি স্মিথের৷

তবে দলের প্রয়োজনে ভাঙা হাতেই লড়াইয়ে নেমেছিলেন স্মিথ৷ শুধু নামা নয় এক হাতেই মিচেল জনসনের পেস আক্রমণের সামনে টেস্ট ম্যাচ ড্র করার লক্ষ্যে ডিফেন্স করে যান স্মিথ৷ তাঁর ১৭ বলের সেই ইনিংসকে আজও ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী ইনিংস ধরা হয়৷ শেষপর্যন্ত অবশ্য ১৮ তম বলে লড়াই শেষ হয় স্মিথের৷ জনসনের বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রোটিয়া অধিনায়ক৷ স্মিথের কেরিয়ারে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ৭ জানুয়ারি, ২০০৯৷ এই দিনের যে যন্ত্রণা উপেক্ষা করে এক হাতে কেরিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছিলেন স্মিথ৷

ম্যালকম মার্শাল– সিডনি টেস্টে স্মিথের সেই ইনিংসের অনেক আগে এক হাতে ব্যাট করে বাইশ গজে দাঁতে দাঁত চিপে পড়ে থাকার উদাহরণ রেখেছিলেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ম্যালকম মার্শাল৷ সালটা ১৯৮৪, হেডিংলে টেস্ট৷ ভাঙা হাতে ব্যাট করে চার হাঁকিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলার মার্শাল৷ শুরুতে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে সময় ক্রিস ব্রডের ব্যাট থেকে আসা একটি বল আটকাতে গিয়ে বাঁ-হাতের বুড়ো আঙুলে দুটি চিড় ধরে৷ ডাক্তাররা সেই টেস্টে বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও সতীর্থ ক্রিকেটার গোমস যাতে শতরান পূর্ণ করতে পারে, সেকারণে ভাঙা আঙুল নিয়ে ব্যাট করতে নেমে গিয়েছিলেন মার্শাল৷

একহাতে ব্যাটিং করে থার্ড ম্যানে একটি বাউন্ডারিও মারেন৷ শতরান পূর্ণ করে ১০৪ রানে অপরাজিত থেকে সেদিন মাঠ ছেড়েছিলেন ল্যারি গোমস৷ শেষ উইকেটে মার্শালের ৮ বলের সেই লড়াই আজও ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে৷ চোট ছিল বাঁ-হাতে, তাই বোলিং করতে অবশ্য কোনও সমস্যা হয়নি মার্শালের৷ বল হাতে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ভাঙন ধরিয়ে সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন৷

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট