যুদ্ধাপরাধের পৃষ্ঠপোষকদের ক্ষমা না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

যুদ্ধাপরাধের পৃষ্ঠপোষকদের ক্ষমা না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

যুদ্ধাপরাধের পৃষ্ঠপোষকদের ক্ষমা না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা শেখার সুযোগ থাকতে হবে এবং নিম্ন আদালতেও বাংলা চর্চা শুরুর আশাবাদ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইংরেজিতে রায় লিখলে সবার কাছে বোধগম্য হয় না।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আসার পর বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় বলেও এ সময় মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে জাতিগত সত্তা প্রকাশের পথ দেখিয়েছিল। ভাষার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। প্রত্যেকটি অর্জনের জন্য বাঙালিকে সংগ্রাম ও আন্দোলন করতে হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ভাষা শিখতে হবে তবে বাংলাভাষাকেও মর্যাদা দিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানপ্রেমীদের কাছ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে সংকোচ হয়— দেশে এমন পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে না আসে সে বিষয়েও সজাগ থাকার কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার শাসনামলের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্টের খুনিদের ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসানো হয়েছিল। আর যারা স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, সাজা কার্যকর হয়েছে, তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছিল, লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত পতাকা তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল, জাতি যেন কোনো দিন তাদের ক্ষমা না করে।’

‘যারা আমার মা বোনকে রেপ করেছে, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, লুটপাট করেছে, যারা এদেরকে মর্যাদা দিয়েছিল, তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিল, তাদের ব্যাপাকে জাতিকে সচেতন থাকতে হবে। তাদেরকে কিন্তু জাতি কোনাদিন ক্ষমা করতে পারে না, ক্ষমা করবেন না।’

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এই ভাষার চর্চা, দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু মাতৃভাষা হিসেবে বাংলার চর্চা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী রফিকুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক