যেসব ফিটনেস টিপস শরীরের জন্য ক্ষতিকর

যেসব ফিটনেস টিপস শরীরের জন্য ক্ষতিকর

আজকাল বেশিরভাগই ফিট থাকতে পছন্দ করেন। শুধু তাই নয়, শরীরটাকেও একটা নির্দিষ্ট আকৃতি দিতে চান তারা। তবে যাই হোক না কেন, সব ধরনের অগ্রগতিই শরীরের জন্য ভালো। সুস্থ এবং ফিট থাকতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তবে এই ফিটনেস ধরে রাখতে গিয়ে কেউ যদি অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন তবে তা কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমানে ফিট থাকতে এমন কতকগুলো গুজব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেগুলো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এগুলো শরীর ফিট রাখার পরিবর্তে ক্ষতি করে বেশি। কাজেই সুস্থ থাকতে এসব ক্ষতিকর টিপসগুলো এড়িয়ে চলুন।

জেনে নিন উপকারের চেয়ে ক্ষতি করে যেসব টিপস-

  • শরীর ফিট রাখতে ব্যায়াম করা ভালো। তবে কেউ কেউ মনে করেন সবসময় কঠিন এবং দ্রুত ব্যায়াম করলে ফিট থাকা যায়। এই ধরনের তথ্যের কোন ভিত্তি নেই। এ ধরনের ব্যায়াম শুধু শরীরের ক্ষতি করে না, মানসিক চাপ বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
  • অনেক বেশি কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম করলে স্লিম থাকা যায়। এ কারণে অনেক মানুষকে আমরা সবসময় মেরাথোন দৌড় দিতে এবং এটা সবসময় অনুশীলন করতে দেখি। আপনি যদি খেলোয়াড় না হয়ে থাকেন তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময় অনুশীলন করুন এবং ২৪ ঘণ্টায় একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন। তা না হলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে বেশি। এর ফলে বয়সকালে হাঁটুর সমস্যা, অত্যধিক ক্লান্তি এবং মানসিক চাপে ভুগতে পারেন।
  • অনেকে মনে করেন হাঁটার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিমে থাকাই বেশি ভালো। ফলে আমাদের বেশিরভাগই প্রতিদিন দিনে ২-৩ ঘণ্টা ব্যায়ামাগারে ব্যয় করে থাকেন। ফিট থাকতে আসলে এর কোন প্রয়োজনই নেই। আপনি চাকুরিজীবী কিংবা একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকলে সারাদিনই আপনাকে নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। এক্ষেত্রে অনেক সময় ধরে জিমে থাকা ক্ষতিকর।
  • ফিট থাকতে যে কোন সময় যে কোন মূল্যে হাঁটতে যাওয়াও এক ধরনের মিথ। সবসময় খুব ভোরে কিংবা সন্ধ্যা সাতটার দিকে ব্যায়াম করা ভালো। তা না হলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সূর্যাস্তের পর শরীরের হরমোনগুলো বিশ্রাম পেতে চায়। কাজেই ফিট থাকতে আমরা সবসময় ব্যায়াম করতে পারি না। এটাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
  • অনেকেই মনে করেন, মানসিক চাপে ভুগলে ব্যায়াম করা ভালো। এটা ফিট থাকার সবচেয়ে ক্ষতিকর এক ধরনের মিথ। পরিবারিক কারণ, কাজের চাপ কিংবা অন্য কোন কারণে মানসিক চাপে ভুগলে ব্যায়াম না করে শরীরকে পূর্ণ বিশ্রাম দিন। কেননা এ সময় ব্যায়াম করলে শরীরে নানা রোগ ব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে এবং কখনও কখনও এটা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
  • খাওয়া-দাওয়াও একটি মারাত্মক সমস্যা। অনেকেই ফিট থাকতে তাদের ডায়েট প্লান নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকেন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এর মানে এই নয় যে, বেশি করে কার্বস, প্রোটিন এবং ক্যালরিযুক্ত খাবার খাবেন। এর পরিবর্তে সুস্থ থাকতে একটা ব্যালেন্স ডায়েট প্লান মেনে চলুন।
  • আসলে ফিট থাকার মানস্ম্মত কোন পন্থা নেই। তবে নিজের প্রয়োজনে একটি নির্দিষ্ট পন্থা মেনে চলতে পারেন। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তির শরীর সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে। কাজেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন ফিটনেস কৌশল অবলম্বন করা উচিত নয়। এতেও শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট