যে কারণে তুরস্ক ভ্রমণে আগ্রহী বিদেশি পর্যটকরা

যে কারণে তুরস্ক ভ্রমণে আগ্রহী বিদেশি পর্যটকরা

তুরস্ক ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। এ বছর শেষ হতে না হতেই ইতিমধ্যে মুসলিম প্রধান এ দেশটিতে ভ্রমণ করেছেন ৩ কোটি ২ লাখ বিদেশি পর্যটক। যা গতবারের তুলনায় ২৩ ভাগ বেশি। বুধবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদলু এজেন্সিকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান দেশটির পর্যটন মন্ত্রী মেহমেত নূরী এরসোরি।

পর্যটন মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি এ বছর তুরস্কের সব রেকর্ড ভেঙে পর্যটক সংখ্যা ৪ কোটি পেরিয়ে যাবে। আর বিগত দিনের সব ঘাটতিগুলোও এতে পুষিয়ে যাবে।

সামুদ্রিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি মুসলিম অধ্যুষিত তুরস্ককে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। ভ্রমণ পিয়াসুদের জন্য মনোরম এ দেশটি বরাবরই আকর্ষণীয় জায়গা।

তুর্কি মন্ত্রী বলেন, আমাদের সার্ভিস ও বিনিয়োগের কারণে পর্যটকরা আরও বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। আর আমাদের বহুবছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণেও বিভিন্ন ধরনের পর্যটকরা এদেশে আসেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সর্ব বৃহৎ বিমানবন্দর ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টের কাজও শেষ পর্যায়ে। এটি উদ্বোধন হলে তুরস্কের পর্যটনের জন্য আরও সহায়ক হবে।

তুরস্কের সংস্কৃতি ও ইতিহাস

তুরস্কের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়। গ্রিক, রোমান, ইসলামিক ও পশ্চিমা সংস্কৃতির মিশ্রণে তাদের একটি সংকর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। অটোমান সম্রাটদের সময় থেকে তুরস্কে পশ্চিমা সংস্কৃতি প্রবেশ করে। ১৯২৩ সালে তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সময় সাংস্কৃতিক জগতের আধুনিকায়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। ললিতকলার বিভিন্ন শাখায় বিশেষ করে জাদুঘর, থিয়েটার, অপেরা হাউজ এবং অন্যান্য স্থাপত্যসহ বিভিন্ন শাখায় এসব বিনিয়োগ করা হয়।

তুরস্কের ইতিহাস দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। প্রাচীনকাল থেকে বহু বিচিত্র জাতি ও সংস্কৃতির লোক এলাকাটি দখল করেছে। ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে এখানে হিটাইটদের বাস ছিল। তাদের সময়েই এখানে প্রথম বড় শহর গড়ে ওঠে। এরপর এখানে ফ্রিজীয়, গ্রিক, পারসিক, রোমান এবং আরবদের আগমন ঘটে।

মধ্য এশিয়ার যাযাবর তুর্কি জাতির লোকেরা ১১শ শতকে দেশটি দখল করে এবং এখানে সেলজুক রাজবংশের পত্তন করে। তাদের শাসনের মাধ্যমেই এই অঞ্চলের জনগণ তুর্কি ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায়। ১৩শ শতকে মোঙ্গলদের আক্রমণে সেলজুক রাজত্বের পতন ঘটে।

১৩ শতকের শেষ দিকে এখানে অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের পত্তন হয়। এরা পরবর্তী ৬০০ বছর তুরস্ক শাসন করে। আর আনাতোলিয়া ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার এক বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওই সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট