যে কোনও অনুপ্রবেশকারীকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখি, হুঙ্কার চিনের

যে কোনও অনুপ্রবেশকারীকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখি, হুঙ্কার চিনের

ডোকলামের টানাপড়েন নিয়ে সরাসরি একটি শব্দও নয়। তবে পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং দাবি করলেন, যে কোনও অনুপ্রবেশকারী শত্রুকে ধ্বংস করার ক্ষমতা চিনা সেনার রয়েছে।

ডোকলামে মুখোমুখি চিন ও ভারতের সেনা। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিদেশ কিংবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক— ভারতের উদ্দেশে একটানা হুঙ্কার দিচ্ছিল সকলেই। তবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বেজিংয়ে পৌঁছনোর আগে চিনের হুমকি বন্ধ হয়েছিল। বেজিংয়ে ডোভালের সঙ্গে সে দেশের স্টেট কাউন্সিলার ইয়াং জিয়েচির আলোচনাতে সন্ধির সূত্র খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। শীতের আগে ডোকলাম থেকে দু’দেশের সেনা সরানো নিয়েও আলোচনা এগিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ পিএলএ-র ৯০ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে চিনা প্রেসিডেন্ট কী বলেন, সে দিকে সবারই কৌতূহল ছিল। কারণ, চিনফিং শুধু কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদকই নন, তিনি কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশনেরও চেয়ারম্যান। অর্থাৎ, সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা। রবিবার ঝুরিহেতে এশিয়ার সব থেকে বড় সেনা প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে চিনফিংয়ের মন্তব্য, ‘‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস,  সব অনুপ্রবেশকারীকে শত্রুকে ধ্বংস করার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস আমাদের বীর সেনাবাহিনীর রয়েছে।’’ চিনের দাবি, ডোকলামে ভারতীয় সেনা অনুপ্রবেশ করেছে। তাই অনেকেরই মতে, ‘অনুপ্রবেশকারী শত্রু’ হিসেবে চিনফিং দিল্লিকেই নিশানা করেছেন।

তবে সার্বিক ভাবে চিনা সেনার ক্ষমতাকে তুলে ধরেও ডোকলাম নিয়ে চিনফিং নির্দিষ্ট হুঙ্কার না দেওয়ায় পরিস্থিতি ইতিবাচক বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার মতে, ‘‘ডোকলামের কথা তুলে মন্তব্য করতেই পারতেন চিনের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ভারত সঙ্কট মেটাতে আগ্রহী, সে কথা চিনা নেতৃত্বকে বলা হয়েছে। যুদ্ধ জিগিরের কোনও জায়গা নেই।’’ ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, চিনা সেনার শক্তিকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট, সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবসে সেই ধরনের কথা বলাটা স্বাভাবিক। বিশ্বশান্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও এ দিন তুলে ধরেছেন চিনফিং।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট