যে যাই বলুক, মন খুলে হাসুন আর সুস্থ স্বাস্থ্য পান…

যে যাই বলুক, মন খুলে হাসুন আর সুস্থ স্বাস্থ্য পান…

হা হা করে হাসার অভ্যেসই চলে গেছে। প্রাণখোলা হাসির আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায় লাফিং ক্লাবে গেলে। হাত তুলে হা হা, হো হো, হি হি-র গুঞ্জন এখন শুনতে পাওয়া যায় সেখানেই। একটা সময় ছিল যখন মনোঞ্জনের এত ধরন ছিল না। আড্ডা ছিল। রসিকতা ছিল। আর ছিল মানুষের হাতে সময়। দিল খোলা হাসিও ছিল। আজ সবাই যান্ত্রিকতায় ভেসে গেছে। অগত্যা, লাফিং ক্লাবই ভরসা। হাসলে অনেক লাভ।

হাসলে আয়ু বাড়ে সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, হাসলে নাকি আয়ু বাড়ে। আর্কাইভস্ অফ জেনারেল সাইকিয়্যাট্রি বলছে, হাসলে অনেক বেশি আশাবাদী হওয়া যায়। যে সব মানুষ জীবন সম্পর্কে আশাবাদী, তাঁদের আয়ু অনেক বেশি।

রোগপ্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রমাণিত, হাসলে রোগপ্রতিরোধ শক্তির বৃদ্ধি ঘটে। শরীরের অ্যান্টি বডি উৎপাদক T সেলের সংখ্যা বাড়ে। এটি সর্দি, কাশি থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। হতাশা উৎপাদক হরমোনের নিঃসরণেও বাঁধা সৃষ্টি করে।

যন্ত্রণা দূর করে– শারীরিক আঘাতের যন্ত্রণা লাঘব করতে সাহায্য করে হাসি। হাসলে এন্ডোরফিন হরমোনের নিঃসরণ হতে থাকে। যেটি কিনা পেইনকিলার মরফিন ড্রাগের চেয়েও বেশি কার্যকরী। চিকিৎসকরা বলেন, হাত পা কেটে যাওয়ার পর ১৫ মিনিট হাসলে ব্যথা অনেক কমে যায়।

হতাশা দূর করে হাসলে যে ক্লান্তি ও হতাশা দূর হয়, সেটা কে না জানে? রোগীর হতাশা দূর করতে মনোবিদরা প্রায়ই লাফটার থেরাপির আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি নতুন পরীক্ষায় প্রমাণিত, পুরুষরা নাকি হাসিখুশি মহিলাদের বেশি পছন্দ করেন। এও জানা যায়, মহিলারা পুরুষদের চেয়ে ১২৫ শতাংশ বেশি হাসেন।

শ্বাস নিতে সাহায্য করে হাসি শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা থাকলে খুলে হাসতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যাস্থমা বা  নিশ্বাসজনিত কোনও সমস্যা থাকলে তা ঠিক হয়ে যায়।

ওজন কমে হাসলেডায়েট করার চেয়ে ঢের বেশি কার্যকরী হাসি। মন ভালো রেখে কেউ যদি দিল খুলে হাসে ওজন কমতে বাধ্য।

হৃদয় ভালো রাখে হাসার সময় রক্তচাপ বেড়ে গেলেও ধীরে ধীরে কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মনে খুলে হাসলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হয় না।

তাই প্রাণ খুলে হাসুন!

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট