রাতের খাবারে রোজ দেরি করলে বাড়তে পারে প্রস্টেট ও স্তন ক্যানসার

রাতের খাবারে রোজ দেরি করলে বাড়তে পারে প্রস্টেট ও স্তন ক্যানসার

অফিস বা কাজের কারণে অনেক সময় রাতে খেতে দেরি হয়ে যায়। আবার ইচ্ছা করে আমারা দেরি করে খাই। আর এই দেরির কারণে শরীরের অনেক বড় ধরণের সমস্যা হয়।

সময় মত খাচ্ছেন কিনা তার উপরে শরীরের অনেক সমস্যার কারণ লুকিয়ে থাকে। মোটা বা রোগা হয়ে যাওয়া, ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার লেভেল হঠাৎ ওঠানামা এসবই কিন্তু নির্ভর করে আপনার খাবারের সময়ের উপর।আপনি কখন রাতের খাওয়া খাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করছে ক্যান্সারের ঝুঁকিও?

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ক্যান্সার প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, দেরি করে রাতের খাবার খেলে স্তন ক্যানসার ও প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায় । ৬২১ জন প্রোস্টেট এবং ১,২০৫ স্তন ক্যান্সারের রোগীর উপর পরীক্ষাও চালানো হয়। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৮৭২ জন এবং নারীর সংখ্যা ১,৩২১ জন।গবেষণাটি করেন স্পেনের একটি গবেষকদের  দল । অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের সময়সূচী এবং রাতের খাবার সময় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পরিবারে কারো ক্যান্সার আছে কিনা, বা  অংশগ্রহণকারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং তাদের পরিবেশে ক্যান্সার হতে পারার মতো কোনও প্রভাবরয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলি খুঁটিয়ে দেখেন গবেষকেরা। ফলাফল হিসেবে তাঁরা জানান, দেরি করে রাতের খাবার খেলে সার্বিকভাবেই প্রস্টেট ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে যে রাত  ৯ টার আগে যারা রাতে রাতের খাবার খায় বা খাবার দু’ঘণ্টা পরে ঘুমোন তাদের প্রোস্টেট ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকি ২৬ শতাংশ কম। একইভাবে, প্রাথমিক স্তরের মহিলাদের যারা রাত ১০ টার আগে রাতের খাবার সেরে নেন তাঁদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ১৬% কম।

গবেষকরা জানান যে, দেরি করে খাবার খেলে, এবং খাবার পরেই ঘুমিয়ে পড়লে শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ ব্যহত হয়। যার ফলে বিভিন্ন জৈব প্রক্রিয়া যেমন ঘুম, হরমোনের কার্যকারিতা, শক্তিমাত্রা এবং শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্য হারায়। এর ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়, টিউমার হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

গবেষকরা আরও যানাযায় , খাদ্য উপাদান আর আলো এই সার্কাডিয়ান ছন্দকে সবচেয়ে ভালো নিয়ন্ত্রণ করে। আগের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের শরীরের ক্যান্সার তৈরিতে বিভিন্ন খাবারে কী কী ঝুঁকি রয়েছে তা নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু ক্যান্সারের কারণ হিসেবে খাবারের সময়সূচি কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে হতে পারে তা নিয়ে খুব সীমিত গবেষণাই রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট