রাবি শিক্ষক হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

রাবি শিক্ষক হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসি দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচার শিরীন কবিতা এ রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম ও বগুড়ার শিবগঞ্জের মাসকাওয়াত হাসান ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে সাকিব।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- নীলফামারির মিয়াপাড়ার রহমত উল্লাহ, রাজশাহী মহানগরীর নারিকেলবাড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তার ও তার ছেলে রিপন আলী।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে পাঁচ আসামির মধ্যে আদালতে উপস্থিত ছিলেন চার আসামি।  শরিফুল ইসলাম ঘটনার পর থেকে পলাতক আছে।

32116926_2067676406821556_7096720719702130688_n

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অভিযুক্ত ৮ আসামির মধ্যে খায়রুল ইসলাম বাঁধন, নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান ও তারেক হাসান ওরফে নিলু ওরফে ওসমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু বলেন, ‘অধ্যাপক রেজাউল অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার চিন্তাভাবনা করতেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তার এলাকায় তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন । তিনি মুক্তমনা হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাপক রেজাউল হত্যার মূল পরিকল্পনা করা হয় রাজশাহীর বাগমাড়া থেকে। আসামিদের মধ্যে দুই জেএমবি মাসকাওয়াত হাসান ও শরিফুলএই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিল।’

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয় অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। পরদিন নিহতের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ৮ জনকে আসামি করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রেজাউস সাদিক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু বলেন, হত্যা মামলাটিতে মোট ৩২ জন সাক্ষী ছিলেন। তবে আদালত ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ৯ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। ১১ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শেষ হলে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার রায়ের জন্য ৮ মে দিন ঠিক করে দেন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট