রেকর্ড রানেও হারলো বাংলাদেশ

রেকর্ড রানেও হারলো বাংলাদেশ

টি-টুয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়েও প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে হারতে হল বাংলাদেশকে।শেষ চার ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ১৩। ক্রিজে থিসারা পেরেরা এবং দাসুন শানাকা। ১৭তম ওভারে আসলেন রুবেল। প্রথম চারটি বলে যা করলেন, তাতেই দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা!

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে করেছিল ১৯৩ রান। কিন্তু এদিন আড়াইশ রান করলে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার জয় আটকানো যেতো না। কারণ তারা প্রথম টি২০ ম্যাচটি জিতেছে হাতে ২০টি বল রেখেই।

যদিও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ কখনও ২০০ পেরোতে পারেনি। এটাই বলে দিচ্ছে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই খেলাটি এখনও ধাঁধা হয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য। বৃহস্পতিবার একসময় আশা জাগছিল,  হয়তো সেই মাইলফলক পেরোবে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৯৩ রান করে থেমেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। অথচ এই স্কোর গড়েও বাংলাদেশকে হারতে হলো! বৃথা গেল নতুন টি২০’র দলীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

প্রথম টিটোয়েন্টির দলে ছিলেন না সাকিব আল হাসান, ছিলেন না তামিম ইকবালও। তবু টি টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ফেলল বাংলাদেশ। এর পর জয়ের আশা তো অবাস্তব কিছু নয়। কিন্তু বোলারদের ব্যর্থতায় সেটি আর সম্ভব হয়নি।

তবে ঢালাওভাবে সব বোলারকে দায় দিলে ভুল হবে। অভিষিক্ত নাজমুল ইসলাম অপু যে দুর্দান্ত করেছেন। বোলিং নয়, উইকেটের উদ্যাপন দিয়েই বেশি বিখ্যাত এই বাঁহাতি স্পিনার। ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখানোর সময় ছোবল দেয়ার ভঙ্গিটা বিপিএলে দারুণ জনপ্রিয়।  সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দেখা গেছে বৃহস্পতিবার দুবার। এমন রান উৎসবের মাঝেও ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট। না, নাজমুল ইসলাম অপু তার সর্বোচ্চটাই দিয়েছেন।

কিন্তু সর্বোচ্চ নয়, মোটামুটিটুকুও দিতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান,রুবেল হোসেন কিংবা মাহমুদউল্লাহরা। কেউ ২ ওভারে ৩৩ রান দিয়েছেন, কেউবা ৪ ওভারের কোটা পূরণ হওয়ার আগেই ৫২! মোস্তাফিজের স্পেল তো শুরুই হয়েছিল টানা তিন চারে। অভিষেকে নাজমুলের অমন বোলিং কিংবা আফিফের উইকেট পাওয়ার উদ্যাপন তাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের আনন্দে রূপান্তরিত হলো না।

বাংলাদেশের এমন ছন্নছাড়া বোলিংয়ের ফায়দা তুলেছেন শ্রীলঙ্কার প্রায় সব ব্যাটসম্যান। মাত্র ২৭ বলে ৫৩ করেছেন কুশল মেন্ডিস। গুনাতিলকার ৩০ রান এসেছে মাত্র ১৫ বলে। শানাকার ২৪ বলে ৪২ কিংবা থিসার পেরেরার ১৮ বলে ৩৯ রান নিশ্চিত করেছে খেলাটা নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই শেষ হয়েছে। স্পিনের ফণা তুলেছিলেন বটে নাজমুল কিন্তু ছোবলটা সঠিক জায়গায় দিতে  পেরেছে হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কাই।

এদিন লঙ্কানদের ব্যাটিং তান্ডবে আসলে বাংলাদেশের বোলিং ইনিংসে একবারও জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি স্বাগতিকদের। কুশল মেন্ডিস ও দানুশকা গুনাথিলাকা ওপেনিংয়ে যে ভিত গড়ে দিয়ে গেলেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে দাসুন শানাকা ও থিসারা পেরেরা লঙ্কানদের নিয়ে গেলেন জয়ের বন্দরে।

আর তাইতো ১৬.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে পাওয়া জয়ে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে (১-০) তে এগিয়ে রইল সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছাপিয়ে মিরপুরের প্রথম টি-টোয়েন্টির ‘নায়ক’ কুশল মেন্ডিসের হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ছয় উইকেটে জয়ী শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৯৩/৫ (২০ ওভার)

(জাকির হাসান ১০, সৌম্য সরকার ৫১, মুশফিকুর রহিম ৬৬*, আফিফ হোসেন ০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩, সাব্বির রহমান ১, আরিফুল হক ১*; শিহান মাদুশানকা ০/৩৯, দানুশকা গুনাথিলাকা ১/১৬, ইসুরু উদানা ১/৪৫, থিসারা পেরেরা ১/৩৬, আকিলা ধনঞ্জয়া ০/৩২, জীভন মেন্ডিস ২/২১)।

শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ১৯৪/৪ (১৬.৪ ওভার)

(কুসল মেন্ডিস ৫৩, দানুশকা গুনাথিলাকা ৩০, উপুল থারাঙ্গা ৪, দাসুন শানাকা ৪২*, নিরোশান ডিকওয়েলা ১১, থিসারা পেরেরা ৩৯*; নাজমুল ইসলাম ২/২৫, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ০/৩৩, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/২৩, রুবেল হোসেন ১/৫২, মোস্তাফিজুর রহমান ০/৩২, আফিফ হোসেন ১/২৬)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: কুসল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট