রেলের জনবল বাড়িয়ে লাখের ওপর করা হবে: মন্ত্রী

রেলের জনবল বাড়িয়ে লাখের ওপর করা হবে: মন্ত্রী

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন শনিবার রেলের জনবল আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রেল ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘রেলকে আরও গতিশীল করার জন্য ২৫ হাজার জনবল থেকে বাড়িয়ে এক লাখের ওপর করা হবে।’

সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ট্রেনিং সেন্টারে ১১তম (সিপাহী) ব্যাচের সমাপনী ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধির জন্য ৩শ’ কিলোমিটারের বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব ট্রেন উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, দিনাজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চল খুলনা রুটেও যাতে চলাচলা করতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ভ্রমণের জন্য সড়ক পথ অনিরাপদ, অস্বস্তিকর। রেলওয়ে ভ্রমণের জন্য খুবই নিরাপদ, স্বস্তিকর। তাই রেলপথে পশ্চিমাঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য ঈশ্বরদী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।’

রেলমন্ত্রী বলেন, ডাবল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলরুটে রাজধানী ঢাকার সাথে পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। তাই পুরনো প্রথা বদলে ফেলে উন্নত রেল-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে সকল মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েল গেজে পরিণত করা হবে। পশ্চিমাঞ্চলে খুব শিগগিরই উচ্চগতির (হাই স্পিডের) ট্রেন চালুর উদ্যোগ ও পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রেল মন্ত্রণালয় ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী নেই। তাই আগামী দিনে রেলওয়ের সম্পদ ট্রেনযাত্রীদের ভ্রমণে কোনোরূপ বিঘ্ন না হয় সেই জন্য সরকার রেলওয়েতে জনবল বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীতেও জনবল বৃদ্ধি করা হবে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট রেজওয়ান-উর-রহমান এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত  বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রেলওয়েতে যে উন্নয়ন করেছে, তা বিগত আমলে  কোনো সরকার করেনি। এখন আর সড়কপথে মানুষ চলতে চায় না। সড়কপথে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তাই ভ্রমণে ট্রেনকে নিরাপদ মনে করছে। শেখ হাসিনার নির্দেশ, ভারসাম্যপূর্ণ একটি যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য উন্নত যোগাযোগ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ চলমান। পারমাণবিক প্রকল্প ও রেলকে সম্প্রসারণ করার জন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- পাবনা-৪ আসনে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে সকালে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ১১তম ব্যাচের সদস্যদের কুচকাওয়াজ প্রদর্শন ও মেধাবী সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
ডেস্ক রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
What is the capital of Egypt ? ( Cairo )