রোনালদোর ধর্ষণ: সেদিন কী হয়েছিল, জানালেন মার্কিন তরুণী

রোনালদোর ধর্ষণ: সেদিন কী হয়েছিল, জানালেন মার্কিন তরুণী

৯ বছর আগের এক ধর্ষণের অভিযোগের তীর পতুর্গিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে। ৯ বছর আগের ঘটনার নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেদিন হোটেল কক্ষে তাঁর সঙ্গে রোনালদোর কী ঘটেছিল সেই বর্ণনা শোনা যাক অভিযোগকারী মার্কিন তরুণীর জবানিতে।

রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী তরুণীর নাম ক্যাথরিন মায়োরগা। তিনি বর্তমানে একটি স্কুলে শিক্ষিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০০৯ সালে লাস ভেগাসের এক হোটেলে তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা।

মায়োরগা জানান, তাঁর সঙ্গে রোনালদো পরিচয় হয় এক বিখ্যাত নাইটক্লাবে। তখন মায়োরগা ওই নাইটক্লাবে চাকরি করতেন। ২০০৯-এ  রোনালদো সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছেন।

সে যাই হোক, একটা সময়ের পর সেই নাইটক্লাবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাঁকে নিজের হোটেলের ঘরে আসার আমন্ত্রণ জানান সিআরসেভেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েই মহাবিপদে পড়েন মায়োরগা।

দ্য গার্ডিয়ান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মায়োরগা বলেছেন, `রোনালদো আমাকে ওঁর গোপনাঙ্গ ৩০ সেকেন্ডের জন্য ধরতে বলে। আমি প্রথম হেসে উড়িয়ে দেই। বলি, তুমি নিশ্চয়ই মজা করছ! রোনাল্ডোর যৌন আবেদনে অনেকে মুগ্ধ। কিন্তু তখন ওঁর ভিতরে থাকা নোংরা মানুষটার পরিচয় পাই।

মায়োরগা বলেন, ও (রোনালদো) আমাকে অ্যানাল সেক্সের প্রস্তাব দেয়! বিপদ বুঝতে পেরে ছাড়া পাওয়ার আশায় আমি বড়জোর চুম্বনে রাজি হই। কিন্তু সে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমাকে হোটেল রুমে আটকে রাখে ও। একপর্যায়ে জোর করে আমার সঙ্গে সে বিকৃত যৌনতা শুরু করে।

আমি ওর কাছে অনুরোধ করি। কিন্তু ও তখন কোনও কিছু শোনার মতো অবস্থায় ছিল না। ও যেন মত্ত হয়ে উঠেছিল। নির্যাতনের পরও ও আমাকে রুম থেকে বেরোতে দিচ্ছিল না। শেষে অনেক কষ্টে বেরিয়ে আসি। পরদিন থানায় গিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাই।

সে সময় কিন্তু ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে কখনও এই অভিযোগ প্রকাশ্যে না আনার ব্যাপারে রাজি হন মায়োরগা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্য। পুলিশও নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ৯ বছর আগের সেই ঘটনার।

মায়োরগা সেই সময় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু রোনালদোর পক্ষ থেকে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে চাপ আসে। তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ট্রান্সফার করা হয়। প্রবল লড়াইয়ের পরও একটা সময় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়োরগা। কিন্তু আবার তিনি সাহস জুগিয়ে ফিরে এসেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট