রোনালদোর জাদুকরী পারফরম্যান্সে সেমিতে রিয়াল

রোনালদোর জাদুকরী পারফরম্যান্সে সেমিতে রিয়াল

ছুটে চলছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। অপ্রতিরোধ্য করে তুলছেন রিয়াল মাদ্রিদকেও। টানা ১০ ম্যাচে গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে যাচ্ছেন শিরোপার দিকে। ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে জুভেন্টাসকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

মঙ্গলবার রাতে জুভেন্টাসের ঘরের মাঠ এলিয়াঞ্জা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই ছিটকে পড়ে জুভেন্টাস। ম্যাচের তখন মাত্র ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। এ সময় ইসকোর পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে রিয়াল সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। এই গোলে ইতিহাসে নাম লেখালেন রোনালদো। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করলেন পাঁচবারের ফিফা বর্ষসেরা এই ফুটবলার। আর জুভিদের বিপক্ষে ৬ ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই গোল করার অনন্য কৃতিত্ব গড়লেন এই পর্তুগিজ তারকা। ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ৬৪৮তম গোল।

গোল খেয়েই যেনো খেলায় ফিরে আসার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে আলেগ্রির দল। ২৩ মিনিটে দিবালার ফ্রি কিক থেকে হিগুয়াইন শট নিলে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রিয়ালকে বাঁচান নাভাস। ৩৬ মিনিটে টনি ক্রুসের দূরপাল্লার শট গোলবারে প্রতিহত হলে গোল বঞ্চিত হয় রিয়াল। ৩৮ মিনিটে দিবালার কর্নার থেকে কিয়েল্লিনি হেড করলেও গোলের দেখা পায়নি জুভেন্টাস। প্রথমার্ধের এক মিনিট আগে ডি বক্সের ভেতর কাসেমিরোর হাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বল লাগলে জুভেন্টাস ফুটবলাররা হ্যান্ডবলের আবেদন করেন। কিন্তু রেফারি ছিলেন অনড়।

প্রথমার্ধে আরো বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু অতিথিরা ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। গোল শোধ করার সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি জুভেন্টাস। ফলে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিঠিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জুভিরা।

বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণ চালিয়ে যায় রিয়াল। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে দিবালাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রামোস। আগের ম্যাচে হলুদ কার্ড  পাওয়ার ফলে জুভেন্টাসের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে খেলা হচ্ছে না তার। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে আসে রোনালদোর জাদুকরী সেই মুহূর্ত। দানি কারভাহালের ক্রস থেকে অবিশ্বাস্য এক বাইসাইকেল কিকে বল জালে পাঠান রোনালদো। চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না জুভেন্টাস গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের। এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর গোল হলো ১১৯টি। শুধুমাত্র কোয়ার্টার ফাইনালে তার গোল সংখ্যা দাঁড়ালো ২২ এ। আর এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৯টি।

গোলটি এতটাই উপভোগ্য ছিল যে জুভেন্টাসের দর্শকরা পর্যন্ত করতালি দিয়ে রোনালদোকে সম্মান জানায়। এরপর ম্যাচে ৬৮ মিনিটে কার্ভাহালকে ফাউল করে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার মাধ্যমে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় জুভেন্টাস। তখনও এতটুকু কমেনি রিয়ালের গোলক্ষুধা।

দুই গোল করার পর এবার ম্যাচের ৭২ মিনিটে মার্সেলোকে দিয়ে গোল করান সিআরসেভেন। রোনালদোর সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান পাসে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান মার্সেলো। তাতে ১৯৬২ সালের পর প্রথমবার ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে রিয়ালের কাছে জুভেন্টাসের হারও নিশ্চিত হয়ে যায়।

৮৭তম মিনিটে মাতেও কোভাচিচের শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না বুফনের। তবে বদলি নামা খেলোয়াড়ের শট ক্রসবারে লেগে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যবধান বাড়েনি। ৯২ মিনিটে বুফনকে একা পেয়েও হ্যাটট্রিক গোলটি করতে ব্যর্থ হন রোনালদো। শেষের দিকে দুদল গোলের আক্রমণ করলেও আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে প্রথম লেগ শেষে ৩-০ গোলের জয়ে নিয়ে সেমির পথে এক পা দিয়ে রাখলো রিয়াল মাদ্রিদ।

গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জুভেন্টাসকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল জিনেদিন জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী বুধবার রিয়ালের মাঠে হবে শেষ আটের ফিরতি লেগের ম্যাচ।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট