রোমার দুই আত্মঘাতী গোলে বার্সার বড় জয়

রোমার দুই আত্মঘাতী গোলে বার্সার বড় জয়

দুইটি আত্মঘাতী গোলে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এক ম্যাচে দুটি আত্মঘাতী গোল করা মাত্র চতুর্থ দল রোমা। বার্সেলোনার হয়ে একটি করে গোল করেছেন লুইস সুয়ারেজ ও পিকে।

ন্যু ক্যাম্পের প্রথম লেগের আগের লিওনেল মেসিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা ছিল রোমার। দলটির ডিফেন্ডার কোসতাস মানোলাস দিনকয়েক আগে পেপ গার্দিওলার করা ‘মেসিকে আটকানোর কোনও পথ নেই’ মন্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে তারা আটকাতে পেরেছে, গোলহীনভাবেই মাঠ ছেড়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। কিন্তু মেসিকে আটকাতে গিয়েই নিজেদের সর্বনাশটা করেছে রোমা।

মেসির পায়ে যাতে বল না যায়, সেই চেষ্টা করতে গিয়েই নিজেদের জালে বল জড়ায় সফরকারী দলটি। এরপর আরও একবার আত্মঘাতি গোল উপহার দেয় তারা কাতালানদের। আর পরে পিকে ও সুয়ারেস স্কোরশিটে নাম তুললে বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

শুরুতে কাতালানরা স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি। তাদের অগোছানো ফুটবলে প্রথম সুযোগটা আসে মেসির পা ধরেই। বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে থেকে শট করেছিলন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। আচমকা শটটি ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন রোমা গোলরক্ষক আলিসন।

ম্যাচের ৭ মিনিটেই ‘গোল…’ বলে চিৎকার করে ওঠে বার্সা সমর্থকরা। সুয়ারেজের ওই গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয়ে গেলে সেই উল্লাসে ভাটা পড়ে। ৯ মিনিটে বার্সার ডি-বক্সে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেন রোমার খেলোয়াড়েরা। তাদের আবেদনে অবশ্য কান দেননি রেফারি। ১১তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে মেসির দুর্দান্ত শট আটকে দেন রোমার গোলরক্ষক আলিসন। ১৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে সুয়ারেজের শট রোমার রক্ষণের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে মাঠের বাইরে গেলে কর্নার পায় বার্সা। ইভান রাকিটিচের কর্নার কিক কাজে লাগাতে পারেননি বার্সার কেউ।

তবে ক্লিয়ারের সময় আবারো বল পায়ে চলে আসলে রাকিটিচের দুর্দান্ত এক শটে রোমার গোলপোস্ট কেঁপে ওঠে। ৩৮ তম মিনিটে মেসিকে ভালোভাবে সামাল দিলেও গোল হজম করে বসে রোমা। ইনিয়েস্তা পাস দিয়েছিলেন মেসিকে, সেটা রোমার খেলোয়াড় ডেনিয়েল ডি রোসির গায়ে লাগলে রোমার জালে বল জড়িয়ে যায় (১-০)। প্রথমার্ধ স্কোরবোর্ড ১-০-তে রেখেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ তৈরি করে খেলে বার্সা। ৫৩তম মিনিটে মেসির দুর্বল শট আটকে দেন রোমার গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই কর্নার পায় বার্সেলোনা। রেকিটিচ আর মেসির গোছানো পাস থেকে বল পান উমিতি। উমিতি গোলমুখে শট নিলে তা পোস্টে লেগে ফিরে এসে রোমার খেলোয়াড় মানোলসের গায়ে লেগে গোল লাইন অতিক্রম করে (২-০)। প্রথম দুই গোলই আত্মঘাতী! তৃতীয় গোল পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সার। ৫৯মিনিটে সুয়ারেজের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকানোর চেষ্টায় সফল হন আলিসন। কিন্তু পিকের পায়ে বল চলে গেলে শেষ রক্ষা হয়নি। বার্সার হয়ে ম্যাচের তিন নম্বর গোলটি করেন জেরার্ড পিকে (৩-০। ৬৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে বার্সা। এবারও মেসির সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান রোমার গোলরক্ষক আলিসন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট