রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের উপর চাপ দিতে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের উপর চাপ দিতে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

মানবিক সহায়তা ছাড়া মিয়ানমারে অন্যান্য সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের উপর চাপ দিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আমি বলেছি, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নিরাপদ এলাকা তৈরি করতে হবে। রোহিঙ্গারা শুধু দেশে ফিরলেই হবে না। তাদের ভবিষ্যৎও নিরাপদ হতে হবে।’

রোববার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি অর্থমন্ত্রণালয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। আমরা ১০ লাখের বেশি গৃহহারা মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছি। গ্লোবাল কমিউনিটির দায়িত্ব বাংলাদেশ পালন করায় আমাদের উনারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কাল উনারা কক্সবাজার যাবেন। রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখতে।’

১৯৯১ সাল থেকে আমাদের দেশে রোহিঙ্গা আসছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতদিন ধরে একটা দেশ নিষ্পেষিত হচ্ছে সামরিক জান্তার হাতে। মিয়ানমার কিন্তু উন্নত দেশ। কিন্ত এত সংখ্যক বার্মিজদের আমরা রাখতে পারবো না। এটা যুদ্ধ না, এটা এক ধরনের আক্রমণ। আমাদের পুরো অর্থনীতি আক্রান্ত হতে পারতো।’

অর্থমন্ত্রী জানান আরও জানান, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংক ৪৮০ মিলিয়ন সাহায্য দিচ্ছে। আমাদের এবারের বাজেটে পাঁচ শ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি। এখন এই টাকাটা আমরা অন্যভাবে ব্যবহার করবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন,  ‘তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ৬টি বিমান ক্রয়ের চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বিশ্বব্যাংক থেকে ২৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়া হচ্ছে। এই ঋণের বিপরীতে সুদ দিতে হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। ১২ বছর মেয়াদি এই ঋণ। এই ঋণের আওতায় এই বছরই ২টি বোয়িং আসছে।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট