রোহিঙ্গা সঙ্কটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়েছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সঙ্কটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়েছে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়েছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আমাদের দেশে এসেছেন, তাদের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক, তারাও চান মিয়ানমার থেকে যে ১১ লাখ মানুষ এসেছে, তারা সেখানে ফিরে যাক। আমরা আশা করছি, তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে।

বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয় অবহিত করতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। শুরুতে লিখিত বক্তব্যে তিনি তার সাম্প্রতিক সফরগুলোর বিষয় তুলে ধরেন।

কোটা সংস্কার নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা সংস্কার ছাত্রদের বিষয় না। এটা সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়। ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে এখন প্রশ্ন আনার দরকার কী?

কোটা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্ররা দাবি করেছে, সেটি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন হা-হুতাশের কী আছে?’সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জেলা কোটাও বাতিল হয়ে গেছে। এখন পিছিয়ে পড়া বলে কেউ অভিযোগ করতে পারবে না। আন্দোলনের সময় অনেকের ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, এখন কেউ এসে পিছিয়ে পড়া হিসেবে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ করতেও পারবে না।

v

এছাড়াও লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি পদক্ষেপসহ যা যা করা দরকার সরকার তা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারেক রহমান একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দুই দু্ইটা মামলায় সে সাজাপ্রাপ্ত। আরও মামলা রয়েছে। এই সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবার লন্ডনে বসে আন্দোলন করে তার মায়ের মুক্তির জন্য, যে কি-না আরেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি।’

তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে গেলে তাকে কিন্তু পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। এছাড়া সে যে দেশের পাসপোর্টধারী সে দেশে যেতেও পারে না, কেননা ওই দেশে গেলে তার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল হয়ে যায়।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিজেদের বলে সবচেয়ে বড় দল, সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। তো তারা কী এত বড় দলে একটা মানুষ পেল না নেতৃত্বের জন্য। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করে বসে আছে।’

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের একজন অপরাধীকে দেশে ধরে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে। যেভাবে আইনে আছে, যা যা করতে হয় আমরা করবো।’

ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব গঠনে নির্বাচনের নিয়ম আছে। সেজন্য প্রার্থীদের আবেদন নেওয়া হয়েছে। প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়, সেটা না হলে নির্বাচন হয়। সমঝোতা হয়ে গেলে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তা ঘোষণা করা হবে।’

নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া সম্মানজনক ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ নারীদের উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, এর আগে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে গত ১৫ এপ্রিল দুদিনের সফরে সৌদি আরব যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ‘গালফ শিল্ড-১ নামে একটি যৌথ সামরিক মহড়ার কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

এরপর সেখান থেকে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম) যোগ দিতে যুক্তরাজ্য যান প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবে আট দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ২৩ এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি।

এর তিন দিন পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গ্লোবাল সামিট অন ওমেন’ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ায় যান। এই সম্মেলনে নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা বৈশ্বিক নারী বিষয়ক সম্মেলনে (গ্লোবাল সামিট অন উইমেন) যোগদান শেষে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট