রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের কাছে তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ সব সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘হাই লেভেল ইভেন্ট অন দ্য গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন রিফিউজি: এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি অ্যান্ড করপোরেশন’-এ তিনি এসব সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপারিশগুলো হলো:

১. মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বাতিল এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরিত করার প্রকৃত কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

২. মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে একটি ‘সেইফ জোন (নিরাপদ অঞ্চল)’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৩. জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের জোর করে বিতাড়িত করা হয়েছে। একটি দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমরা আমাদের সীমানা খুলে দিয়েছি এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা কেবল তাদের জীবনই বাঁচাইনি, আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছি।’

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকানের এই বিপুল সংখ্যক নাগরিকদের স্থান দেওয়ার ফলে আমাদের সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভূমির স্বল্পতা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পরিবেশের ওপর প্রভাবের কারণে আমরা ভাসান চর নামে একটি নতুন দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরিত করতে যাচ্ছি। সেখানে তাদের ভালো জীবনযাত্রা নিশ্চিত হবে।’

রোহিঙ্গাদের সাহায্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসার প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই ভুলে গেলে চলবে না যে, প্রত্যেক উদ্বাস্তু তার নিজের দেশে নিরাপদে ফেরত যেতে চায়। মিয়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া মানুষগুলোকে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে।’

সোমবার শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশনের আয়োজনে ‘গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন অন ড্রাগ প্রবলেম’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন। এ বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ছিলেন।

জাতিসংঘের ৭৩ তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘মেকিং দ্য ইউনাইটেড নেশন্স রিলেভেন্ট টু অল পিপল: গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যান্ড শেয়ারড রেসপনসিবিলিটিস ফর পিসফুল, ইকুইট্যাবল অ্যান্ড সাসটেইনেবল সোসাইটিজ।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট