লাইলাতুল কদর আজ, ইবাদতে মশগুল মুসলমানেরা

লাইলাতুল কদর আজ, ইবাদতে মশগুল মুসলমানেরা

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমসহ সারাদেশের মসজিদে ইবাদতের মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হচ্ছে। মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় কোরআন তেলাওয়াত, নফল ইবাদত ও জিকির-আসগারের মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন।

২৬ রোজার সন্ধ্যায় তারাবিহ নামাজ আদায়ের পর নফল ইবাদতের মাধ্যমে মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগি শুরু করেছেন। দীর্ঘ রাত জেগে মহান আল্লাহর কৃপা অনুসন্ধান করছেন তারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত বিভাগের পরিচালক মো. মোজাহারুল মান্নান বলেন, পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে মাগরিব নামাজের পর বায়তুল মুকাররম মসজিদে প্রাক-বয়ান শেষ হয়েছে।

রাত ১১টায় মহিলা ও পুরুষদের জন্য পৃথক ব্যবস্থায় ‘শবে কদরের ফজিলত ও করণীয়’ শীর্ষক তাফসিরুল মাহফিল অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকবে।

তিনি বলেন, ‘বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত হয়। মুসল্লিরা জিকির-আজকার করছেন। ফজরের নামাজের পর বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হবে।’

এ ছাড়া আজ তারাবিহ’র নামাজের পর সারাদেশে মসজিদে মসজিদে ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বায়তুল ওয়াহ্হাব মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এই রাতটির মহিমা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জানেন। এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন ও রহমত বর্ষণ করেন। তাই সব মুসলমানের উচিত এই রাতের সুযোগটি কাজে লাগানো।’

মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদে নামাজ পড়তে আসা ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘মহিমান্বিত এই রাতটির গুরুত্ব অনেক। নামাজের মাধ্যমে আজকের এই রাতটি পার করতে চাই। সেই নিয়ত করেই বাসা থেকে বের হয়েছি।’

লাইলাতুল কদরের রাতে পবিত্র কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে ‘আল-কদর’নামে একটি সুরাও নাজিল হয়। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তাই শবে কদরের রাতটি মুসলমান সম্প্রদায় মহান আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও পুণ্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার করে অতিবাহিত করেন।

কোরআন নাজিলের মাস মাহে রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোর কোনো একটিই এই পুণ্যময় লাইলাতুল কদর। তবে ওলামায়ে কেরামরা মনে করেন, রমজান মাসের ২৬তম দিনের শেষের রাতটিই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। সেই হিসাবে এই রাতটিকেই লাইলাতুল কদর হিসেবে ধর্মপ্রাণ মুসলিম নর-নারীরা সারারাত নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির আসগারে মগ্ন থাকছেন।

রাসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদরকে সন্ধান করো। (মুসলিম)।’ এ রাতগুলো হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯। মনে রাখতে হবে, আরবিতে দিনের আগে রাত গণনা করা হয়।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজা, সহিহ-আলবানি)

শবে কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে জোহরের নামাজের পর ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। থাকছে তারাবির নামাজ শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচিও।

এ ছাড়া, শবে কদর উপলক্ষে বুধবার (১৩ জুন) সরকারি ছুটি থাকবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট