লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

 

পরীক্ষায় কত পারসেন্ট পাস হলো আর কত পারসেন্ট পাস হলো না তা বিবেচ্য বিষয় নয় লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীদেরই দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তোমাদের জন্য আমরা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। তোমাদের লেখাপড়া শিখতে হবে এজন্য যে ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে।

“তোমরাই কেউ কেউ ভবিষ্যতে ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে, বিজ্ঞানী হবে। দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে তোমরাই দ্বায়িত্ব গ্রহণ করবে। তোমাদের যেমন নিজেদের পিতামাতার দায়িত্ব নিতে হবে তেমন দেশের দায়িত্বও নিতে হবে।”

রোববার গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি পাওয়ার পর এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেন।

এবার সব বোর্ড মিলে পাসের গড় হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

শিক্ষার গুণগত মানের প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে। পড়াশোনায় মন দিতে হবে। অভিভাবক–শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া। সন্তান যাতে মাদকাসক্তিতে না যায়, জঙ্গিবাদে না জড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছেলেমেয়ে কার সঙ্গে মেশে, তা দেখতে হবে। পড়ালেখার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আমরা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়তে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। আজকে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ কম। কিন্তু এ শিক্ষার প্রয়োজন।

বাংলাদেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর শুরু করে বর্তমান সরকারও সে আদর্শকে লালন করে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের ক্ষুধার্ত-দরিদ্র মানুষের মুক্তি, অধিকার আদায়েই জাতির পিতা স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছিলেন। একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে পৃথিবীর ১১৬টি দেশের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘসহ ২৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ অর্জন করেছিলেন।

সঠিক সময়ে পরীক্ষা নেওয়া ও ফলাফল প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক