লেটস টক ফিল্মমেকিং : বিদ্রোহী দীপন

লেটস টক ফিল্মমেকিং : বিদ্রোহী দীপন

তরুন ফিল্মমেকারদের নেটওয়ার্ক সিনেমাপিপলস এর সঙ্গে জড়িত নির্মাতা, চিত্রগ্রাহক, অভিনেতা, সংগীতজ্ঞ, স্ক্রিপ্টরাইটার সহ চলচ্চিত্র নির্মানের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাবনাময় সকলের ক্যারিয়ার জার্নি নিয়ে ডাকপিয়ন২৪-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ‘লেটস টক ফিল্মমেকিং‘ শীর্ষক এক ইন্টারভিউ সিরিজ। সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের অতিথি নির্মাতা সংস্থা মোশন ভাস্করের তরুন চিত্রগ্রাহক বিদ্রোহী দীপন

ডাকপিয়ন২৪: প্রথমেই ব্যক্তিগত প্রশ্ন। বিদ্রোহী দীপন নামটা কিভাবে এলো? এটা কি পিতৃপ্রদত্ত নাম?

দীপন: হা হা হা, এই নামের প্রশ্ন শুনতে ভালোই লাগে। আগে উত্তর দিতে কেমন যেনো লাগতো এখন খুবই কনফিডেন্টলি দিতে পারি। প্রথমত নামটা আমার বাবা মায়ের দেয়া নাম নয়, তবে দীপন নামটা আমার ডাক নাম, আর বিদ্রোহী নামটা আমার নিজের যোগ করা। আমার এক স্যার এই নামটা একবার আমার জন্যে ইউজ করেছিলো, তখনই নামটা আমার ভালো লাগে। এর পরে একটা সিনেমা এই নতুন নাম ব্যাবহার করতে উতসাহিত করেছিলো, সিনেমাটির নাম “ইনটু দ্যা ওয়াইল্ড”। খুবই প্রিয় একটি সিনেমা আমার। এই সিনেমার নায়ক তার নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে জীবন যাপনের শুরুতে সে নতুন করে তার একটি নাম নেয়, যেটাকে ফিল্মে বলা হয়েছে “মাই অউন বার্থ”। আমার বেলায়ও ব্যাপারটা এক। আমার ফ্যামিলি থেকে ফিল্ম এ আসার ব্যাপারে সম্মতি ছিলো না, সো নিজের জন্যে নিজের জন্ম টা নিজেই দিয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা এই নাম আমাকে সব সময় উতসাহিত করে, সবাই আমাকে এই নামেই চিনুক ডাকুক এটাই চাই। সম্প্রতি এই নামটা আমি অফিসিয়ালি নোটারি করিয়েছি এই মর্মে যে মোঃ মেহেদী রহমান (বাবা মায়ের দেয়া নাম) আর বিদ্রোহী দীপন একই ব্যাক্তি।

ডাকপিয়ন২৪: আপনার কাছে সিনেমার সংজ্ঞা কি।

দীপন: সিনেমা হলো জীবনের রিফ্লেকশন, অনেক সময় জীবনের থেকেও বড়।

ডাকপিয়ন২৪: চিত্রগ্রহনের হাতেখড়ি কিভাবে।

দীপন: ২০০৮/০৯ এর দিকে আমি প্রথম মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটিতে যোগ দেই, ওখান থেকে ফিল্ম অ্যাপরিসিয়েশন কোর্স করার পর থেকেই ফিল্ম নিয়ে অন্য ভাবে ভাবা শুরু করি তারপর টুক টুক করে শুরু হয় বিভিন্ন কোর্সে অ্যাটেন্ড করা, অনলাইনে ঘাটাঘাটি এভাবেই শুরু বলতে পারেন।

ডাকপিয়ন২৪: এ পর্যন্ত মোট কাজের সংখ্যা কত এবং উল্লেখযোগ্য কাজগুলো কি কি।
দীপন: শর্ট ফিল্ম দিয়েই আমার শুরু, তাছাড়াও ডকুমেন্টারি ফিল্ম, টেলিফিল্ম, মিউজিক ভিডিও, কমার্শিয়াল সহ অল্প কিছু কাজ করেছি। ঠিক কতোগুলো তা গুনে রাখি নাই। আর আমার উল্লেখযোগ্য কাজ কোনগুলো সেটা তো যারা আমার কাজ দেখেছে তারাই বলতে পারবে, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনোটাকেই উল্লেখযোগ্য মনে হয় নাই আসলে। আমার বেশিরভাগ কাজ আমি আমার ওয়েবসাইটে রাখার চেষ্টা করেছি www.bidrohidipon.com, যদিও ওয়েবসাইটটা এখনো সাজানো বাকি, সময় হলে দেখে নিতে পারেন।

ডাকপিয়ন২৪: এরমধ্যে নিজের কাছে সবচেয়ে পছন্দের কাজ কোনটি।
দীপন: প্রিয় কাজ বলতে গেলে আমি দুটি কাজের কথা বলবো আমার নিজের করা একটি অভজারভেশনাল ডকু “নেয়ার টু সোউল” যেটা শুধু আমি নিজের জন্যেই করেছিলাম, নিজের আত্মার শান্তির জন্যে এবং গত বছর ভিকি জাহেদ এর পরিচালনায় করা শর্ট ফিল্ম “মোমেন্টস“।

12711096_10208558030250956_985417933378981464_o

ডাকপিয়ন২৪: সিনেমা ও চিত্রগ্রহন নিয়ে ডিগ্রী নেয়ার কতদূর?

দীপন: এইতো শেষের দিকে, এপ্রিলে দেশে ফিরবো ইনশাল্লাহ।

ডাকপিয়ন২৪: দেশে ফেরার পর প্লান কি?

দীপন: কাজ, কাজ এবং কাজ। অনেক এক্সপেরিয়েন্স নিতে হবে কাজ করে এটাই প্লান।

ডাকপিয়ন২৪: চিত্রগ্রহনে পড়াশোনার গুরুত্ব কতটুকু।

দীপন: এটাকে বোঝাতে হলে একটু উদাহারন দিয়ে বলতে হবে, ধরেন আমি বাংলা বলতে পারি শুধু, লিখতে পারি না কারন আমার অক্ষর জ্ঞান নেই, ব্যাকরন তো দুরের কথা। ফিল্মস্কুলে এসে আমি অক্ষরগুলো কিছুটা চিনতে শুরু করেছি, এখন কাজ করতে করতে অক্ষর দিয়ে শব্দ, তারপর শব্দ দিয়ে বাক্য লেখায় পারদর্শী করতে হবে নিজেকে। এটা শুধু আমার কথাই বললাম, সবারই এমন হবে তাও না। তবে ফিল্মস্কুলে আসা আমার জীবনের বেষ্ট ডিসিশন বলতে পারেন। আমি পুরো সময়টাই উপভোগ করছি আসলে। আর নিজের ভালোলাগার বিষয়ে পড়াশুনার অনুভুতিটাই অন্যরকম। এটা আমাদের মতো দেশের মানুষদের ভাগ্যে খুবই কম থাকে।

ডাকপিয়ন২৪: অনেকে বলে থাকেন শিল্পের সাথে বানিজ্য মিশলে নাকি শিল্প মরে যায়। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত?

দীপন: বলতে দেন, তাদের জন্যে হয়তো শিল্প মরে গেছে। আমি মনে করি শিল্পের সাথে বানিজ্য থাকবেই, এখন শিল্পটা কে যদি শুধু বানিজ্যই ডমিনেট করা শুরু করে সেটা খুবই খারাপ সাইন। দুটোরি একটা মিশেল থাকতে হবে, একটা সংগম পয়েন্ট থাকতে হবে। খালি পেটে শিল্প জানালা দিয়ে পালাবে, এখন যাদের খাবারের কোনো চিন্তাই নাই তারা হয়তো ভাবতে পারে। আমি আপাতত পারছি না, কারন আমার পেটের চিন্তা মাথায় রেখেই আমাকে কাজ করতে হবে এবং অবশ্যই যাতে কাজগুলো ভালো হয় সেটাই চেষ্টা থাকবে।

ডাকপিয়ন২৪: ওয়াল্ড সিনেমায় আপনার পছন্দের চিত্রগ্রাহক কারা।

দীপন: রজার ডিকিন্স, ইমানুয়েল লুবেজকি এর অনেক বড় ভক্ত আমি। ইমানুয়েল লুবেজকি ২০১৫ তে ইন্সটাগ্রামে আমার তিনটা ছবিতে লাইক দিয়েছিলো, সেদিনের অনুভুতি আমি আপনাকে বোঝাতে পারবো না।

emmanuel-lubezki-interview-pic

ইমানুয়েল লুবেজকি এর মস্ত বড় ভক্ত দীপন

ডাকপিয়ন২৪: আর দেশে?

দীপন: খসরু ভাই, রাশেদ জামান ভাই।

ডাকপিয়ন২৪: এমন কিছু সিনেমার উদাহরন হিসেবে দিন, যেগুলো দেখে প্রত্যেক চিত্রগ্রাহকেরই শেখার আছে।

দীপন: এরকম অনেক আছে, গুগল করলেই পাওয়া যাবে আশা করছি। হা হা হা।

ডাকপিয়ন২৪: সুপার হাই রেজ্যুলেশনের ক্যামেরা নাকি ফিলোসফি কোনটা বেশী জরুরী?

দীপন: অবশ্যই ফিলোসফি।

ডাকপিয়ন২৪: ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকারদের নেটওয়ার্ক ‘সিনেমাপিপলস’ এ যুক্ত হয়ে কি কি সুফল পেয়েছেন জীবনে?

দীপন: আমি এতোটুকু আসতে পেরেছি তার অন্যতম অবদান সিনেমা পিপলসের, এখন যদি বলেন কিভাবে এটা বলতে গেলে অনেক লম্বা হয়ে যাবে, শুধু বলতে চাই পথ চলতে দারুন কিছু মানুষকে পেয়েছি, আমাদের মোশন ভাস্কর এর শুরু টাও এই সিনেমা পিপলস থেকেই।

ডাকপিয়ন২৪: সিনেমাটোগ্রাফার-ডিওপি-ক্যামেরাম্যান… তিনটা রোলকে সংজ্ঞা দিয়ে পার্থক্য করুন।

দীপন: ধরেন টিচার কিন্তু প্রাইমারি স্কুলেরও হয়, হাই স্কুলেরও হয়, কলেজে ভার্সিটিরও হয়। এনারা সবাই টিচার, কিন্তু সবারই জ্ঞানের লেভেল কিন্তু আপনি এক বলতে পারবেন না। আমার কাছে এটার ভাবনা এরকমই। আর কিছু বলতে চাই না এটা নিয়ে।

ডাকপিয়ন২৪: বাংলাদেশের মিডিয়া তরুনদের জন্য কতটুকু স্পেস দেয়। চ্যালেঞ্জের গল্পগুলো শুনতে চাই।

দীপন: আপনি খুব ভাগ্যবান হলে স্পেস পাবেন নতুবা নয়, আপনার স্পেস আপনাকেই বের করে নিতে হবে। চ্যালেঞ্জের গল্প বলার জায়গায় আমি নাই, যেদিন হবে বলবো অবশ্যই। সেদিন শোনার মানুষও অনেক থাকবে আশা করি….হা হা হা।

ডাকপিয়ন২৪: আপনার কাছে জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি?

দীপন: জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি ব্যালেন্সড জীবন সাজানো। আপনি বড় ফিল্ম মেকার হলেন কিন্তু আপনার জীবনের বাকি সবকিছু গোল্লায় গেলো তাহলে কিভাবে কি। আমার কাছে ফিল্মের জন্যে জীবন নয় বরং জীবনের জন্যে ফিল্ম। এটা সম্পুর্ন আমার ব্যাক্তিগত ভাবনা।

ডাকপিয়ন২৪: বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

দীপন: খুবই আশাবাদী।

ডাকপিয়ন২৪: নতুন যারা চিত্রগ্রহনকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান, তাদের প্রতি আপনার টিপসগুলো কি কি থাকবে?

দীপন: অনেক অনেক অনেক ফিল্ম দেখতে হবে সম্ভব হলে বিগ স্ক্রিনে, পড়তে হবে, আশেপাশের সব কিছু অবজারভ করতে হবে…. আর একটি কথা বলতে চাই, আপনি যা চান তা পাওয়ার জন্যে আপনাকে কিছুটা এগ্রেসিভ হতেই হবে।

ডাকপিয়ন ২৪: ধন্যবাদ আপনাকে সময় দেয়ার জন্যে।

দীপন: আপনাকেও ধন্যবাদ, এবং সবাইকে বিদ্রোহী সালাম…সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
মোঃ আলতামিশ নাবিল