শাহবাগে পথ অবরোধ-বিক্ষোভ: কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি

শাহবাগে পথ অবরোধ-বিক্ষোভ: কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি

সরকারি চাকরিতে চলমান কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল শাহবাগ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার বেলা ১১টার দিকে জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী। ১১টা ৫৪ মিনিটের দিকে তারা সেখান থেকে সরে যান।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যান। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- শাহিদ নিলয়, জোবায়ের আহমেদ, আল মামুন ও বায়েজিদ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে। মাইক কেড়ে নিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থীদের সরে যেতে বাধ্য করা হয়নি।

শত শত শিক্ষার্থী স্লোগান ও হাততালি দিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন প্লাকার্ডে ও স্লোগানে স্লোগানে তাঁদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। প্লাকার্ডগুলোয় লেখা হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘দশ পার্সেন্টের বেশি কোটা নয়’, ‘ নিয়োগে অভিন্ন কার্ড মার্ক নিশ্চিত কর’। তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাই, সংস্কার চাই’।

চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫৫ শতাংশ কোটা থাকায় সাধারণ চাকরি প্রত্যাশীরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। এরপরও বিভিন্ন সময় কোটায় বিশেষ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যেমন- ৩২তম বিসিএস, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে বিশেষ কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অপর চাকরি প্রত্যাশী শোয়ায়েব খানের ভাষ্য, তাদের বিক্ষোব কোটার বিপক্ষে না। তারাও চান মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত। কিন্তু এত বৈষম্য করে না। প্রকৃত মেধাবীদের যদি মূল্যায়ন করা না হয়, তাহলে দেশের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাবে। তখন আত্মসম্মান রক্ষা না করতে পেরে, শিক্ষিত বেকাররা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে। তাই কোটা পদ্ধতির সংস্কার করে ১০ শতাংশ করার দাবি তাদের।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এ অবস্থান কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। একই দাবিতে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি

  • কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা হোক।
  • কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে খালি থাকা পদগুলোতে মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে
  • কোটার জন্য কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া যাবে না
  • সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা হতে হবে
  • চাকরির নিয়োগপরীক্ষায় কোটা সুবিধা একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
নিজস্ব প্রতিবেদক