শীত লেগে থাকে ঘরের পর্দায়ও

শীত লেগে থাকে ঘরের পর্দায়ও

আধুনিক পরিপাটি একটা ঘরে ঢুকলেই দেয়ালের আগে চোখে পড়ে পর্দা। জানালার পর্দা, এক রুম থেকে আরেক রুমের মাঝখানের পর্দা, দরজা আর জানালার পর্দা। এই পর্দা কেমন হবে, সেটা শীতের সময় একটু ভেবেচিন্তেই টাঙ্গানো ভালো।

শীতকালে ঘরের জানালা বন্ধ থাকলেও বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ও কুয়াশা থেকে ঘর রক্ষায় প্রয়োজন পর্দা। শুধু ঠাণ্ডা বাতাস ও কুয়াশা নয়, বাইরের ধুলাবালি ও ময়লা থেকে ঘরকে বাঁচায় পর্দা। তাই ঘরের সঙ্গে মানানসই পর্দা বাছাই করা খুবই জরুরি। সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়াও রোদ থেকে বাঁচতে এবং ঘরের গোপনীয়তা রক্ষায় এটি প্রয়োজন।

দেয়ালের রঙ, ঘরে আলো-বাতাস প্রবেশের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে পর্দা নির্বাচন করতে হবে। শীতকালে যে ঘরে আলো কম, সে ঘরের জন্য কিছুটা পাতলা কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আলো-বাতাসের পরিমাণ বেশি থাকলে মোটা কাপড় ও গাঢ় রঙের পর্দা ব্যবহার করাই ভালো। এক্ষেত্রে হলুদ, লাল, কমলা, লালচে কমলা, গাঢ় নীল, সবুজ ইত্যাদি রঙ বেছে নেয়া যেতে পারে। তবে পর্দার রঙ, কাপড়ের ধরন কেমন হবে, তা নির্ভর করবে কোন ঘরে লাগানো হবে তার ওপর। শোবার ঘরের জন্য সবসময় হালকা ও সিগ্ধ রঙের পর্দা ব্যবহার করতে হয়। দুই ধরনের পর্দার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চাইলে দুই স্তরের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রথমে কিছুটা মোটা কাপড় দিয়ে তার ওপর নেটের বা পাতলা কাপড়ের পর্দা লাগানো যেতে পারে। শীতকালে ব্যবহারের জন্য কৃত্রিম বয়ন তন্তু বা সিনথেটিক কাপড়ে তৈরি পর্দা সব থেকে বেশি উপযোগী। অন্যদিকে গ্রীষ্মের সময় ঘরের জন্য সুতি বা প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি পর্দা ভালো।

বাজারে নানা নামে, নানা মানের পর্দার কাপড় পাবেন। এগুলোর ব্যবহারও নানা রকম হয়। সুতি, সিল্ক, স্ট্রাইপ, সুঁই-সুতার প্যান ওয়ার্ক, এমবুশ, ব্লক বাটিকের পর্দার চল তো রয়েছেই; তার সঙ্গে এখন নতুন ক্রেজ ফ্যাব্রিকসের ব্যবহার। নামিদামি বিপণিকেন্দ্রগুলোয় রয়েছে বৈচিত্র্যময় পর্দার সমাহার। এসবের মধ্যে আছে কুঁচি দেয়া পর্দা, স্ট্রেইট পর্দা, কম্বাইন্ড পর্দা। আবার পর্দার ভেতরে আরেকটি পর্দা ব্যবহার হয় যাকে বলে নেট। ফ্যাব্রিকের পর্দার মধ্যে হয় ভেলভেট, লাইক্রো ভেলভেট, মেটালিক কটন, সিল্ক, লেইস, অর্গান্ডি, উল, টিস্যু ইত্যাদি। আবার শাওয়ার কার্টেনের জন্যও রয়েছে আলাদা কাপড়। এসব পর্দা লাগানোর জন্যও রয়েছে নানা পদ্ধতি। পর্দা লাগাতে কাঠ, স্টেইনলেস স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম স্ট্যান্ড ব্যবহার হয়। ওয়াল ফিটিংয়ের জন্য লাগে ওয়াল অ্যাঙ্গেল বা ক্যাম্প। আবার অনেক স্ট্যান্ডের দুই পাশে অ্যান্ড নামক কারুকার্যময় একটি জিনিসও থাকে। জানালার পর্দা ঝোলাতেও ব্যবহার হয় নানা ডিজাইন। কোনোটা ঝোলানো হয় বেল্ট বা লুপ সিস্টেমে, কোনোটা ঝুলানো হয় মেটাল বা প্লাস্টিকের রিং দিয়ে। আবার কোথাও পর্দার বদলে শুধু কুঁচি দেয়া বাহারি ডিজাইনের পেলমেট ঝুলিয়ে দেয়া হয়। তবে পেলমেট পর্দার সঙ্গেও রাখা যায়। যেমনই হোক, পর্দা সাজানো যেন চাকচিক্যে ঘরের অন্য জিনিসকে ছাড়িয়ে না যায়।

ঢাকার নামিদামি সব বিপণিবিতানেই ভালো মানের পর্দার কাপড় পাবেন। বুটিক হাউসগুলোয়ও আজকাল ভালো মান ও ডিজাইনের চমত্কার সব পর্দার কাপড় পাওয়া যায়। আড়ং, নিপুণ, নগরদোলা, প্রবর্তনা, গাউছিয়া রাজধানীর নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মৌচাক, গ্রিন রোড, মোহাম্মদপুর, গুলশানের ডিসিসি মার্কেটের পাশসহ বিভিন্ন জায়গায় পর্দা পাওয়া যায়। এসব মার্কেটে দোকান থেকে রেডিমেড পর্দা কেনার পাশাপাশি পছন্দমতো কাপড় কিনে নিয়েও নিজের মনমতো ডিজাইনে পর্দা বানানো যাবে। এখন চাইলে বিভিন্ন ডিজাইনের লেইস, বোতাম বা লেয়ার হিসেবে পর্দা বানানো যায়। বিপণিবিতানগুলোয় পছন্দসই ডিজাইনে অর্ডার দিয়ে পর্দা বানিয়ে নিতে পারবেন। এতে সময়ও কম লাগবে।

দেশী তাঁত, ভারতীয়, চীনা, মালয়েশিয়ান, কোরিয়ান, জাপানিজ, আমেরিকান নানা ধরনের পর্দার কাপড় রয়েছে। দামেও রয়েছে ভিন্নতা। শ্যানেল প্রতি গজ ৫০০-১৫০০, বেলজিয়াম ভেলভেট ৬০০-২২০০, হিকারন শ্যানেল ৬০০, গোল্ডেন শ্যানেল ৬০০, সিল্ক ২৫০-৩০০, সুতি ১০০-২৫০, পলেস্টার ১০০, ফ্যান্টাসি ৮০০, কটন ফ্যান্টাসি ৪০০-৫০০, পর্দার পেছনে দেয়ার শেয়ার্স ৫০০-৮০০, নেট ২০০-৫০০, লেইস ৮০-২৫০ টাকার মধ্যে পাবেন। পর্দার কাপড় দিয়ে কুশন কভার, সোফার কভারও তৈরি করতে পারেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট