শুক্রবার ও জুম্মা দিনের আমল সম্পর্কিত কতিপয় হাদিস

শুক্রবার ও জুম্মা দিনের আমল সম্পর্কিত কতিপয় হাদিস

আল্লাহ আমাদের সকলকে এই দিনে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন।

১। গোসল করা (*বুখারি ৮৫০/৮৫১,*মুসলিম ১৮২৫,*তিরমিযী ৪৯২, *নাসাই ১৩৮০)

বুখারি ৮৫০ – আবূল ইয়ামান (রহঃ) – আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যাক্তি জুম্মার নামাযে আসবে সে যেন গোসল করে।”

বুখারি ৮৫১ – আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য জুম্মার দিন গোসল করা কর্তব্য 1

মুসলিম ১৮২৫ – কুতায়বা ইবনু যাঈদ ও ইবনু রুমহ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ একবার মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের কেউ জুমুআয় এলে সে যেন গোসল করে নেয়।

নাসাই ১৩৮০ – আবূল আশআস (রহঃ) নামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি জুম্মার দিন অযু করে তা তার জন্য যথেষ্ট এবং তা উত্তম কাজ; আর যে ব্যক্তি গোসল করে তবে তা পরমোত্তম কাজ

২। সুগন্ধি/ তেল ব্যবহার করা (*বুখারি ৮৩৬/৮৩৯,*মুসলিম ১৮৩৭)

৩। জুমু’আর সালাতে শীঘ্র উপস্থিত হওয়া (*বুখারি ৮৮২,*মুসলিম ১৮৪১,*তিরমিযী ৪৯৯)

৪। পায়ে হেঁটে মাসজিদে যাওয়া (*বুখারি ৮৬১/৮৬২,তিরমিজি ৪৯৬)

৫। ২ রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ এর নামাজ পড়া (*মুসলিম ১৮৯৭,*তিরমিযী ৫১০)

৬। মনোযোগ সহকারে খুত্‍বা শোনা (*বুখারি ৮৮৭,*মুসলিম ১৮৪২,১৮৬৫,*তিরমিযী ৫১২)

৭। দু’আ ক্ববুলের মুহুর্ত অন্বেষণ (*বুখারি ৮৮৮,*মুসলিম ১৮৪৭,*তিরমিযী ৪৮৯,*আবু দাউদ ১০৪৮)

তিরমিযী ৪৮৯ – আবদুল্লাহ ইবনুল সাববাহ আল-হাশিমী আল-আত্তার (রহঃ) …… আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জুমাবারের যে মুহূর্তটিতে দু’আ কবূলের আশা করা যায়, তোমার সে মুহূর্তটিকে বাদ আসর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিতে তালাশ কর।

তিরমিযী ৪৯০ – যিয়াদ ইবনু আয়্যূব আল-বাগদাদী (রহঃ) ……… আমর ইবনু আওফ আল-মুযানী থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জুমুআর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে। কোন বান্দা যদি সেই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কিছু দু’আ করে, তবে অবশ্যই তিনি তার দু’আ বাস্তবায়িত করেন। সাহাবীগণ আরয করলেন : হে আল্লাহর রাসূল! কোনটি এই মুহূর্ত? তিনি বললেনঃ জুমুআর ইকামতে সালাত থেকে নিয়ে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত।

৮। সূরাহ কাহফ তিলাওয়াত (হাকিম ২/৩৯৯,বায়হাকি ৩/২৪৯)

মুসতাদারেক হাকিম ২/৩৯৯, বায়হাকী ৩/২৪৯, ফয়জুল ক্বাদীর ৬/১৯৮ :: আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন,  রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পড়বে তার জন্য এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত আলো বিচ্ছুরিত হবে।“

আত তারগীব ওয়া তারহীব ১/২৯৮ :: হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  “যে ব্যক্তি শুক্রবার দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে তার পা থেকে আকাশের উচ্চতা পর্যন্ত নূর হয়ে যাবে, যা কেয়ামতের দিন আলো দিবে এবং বিগত জুমা থেকে এ জুমা পর্যন্ত তার সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।“

সহিহ মুসলিম হা: ১৩৪২, মুসনাদু আহমদ হা:২০৭২০, আবু দাউদ হা:৩৭৬৫ :: আবু দারদা (রা.) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, “যে ব্যক্তি সুরায়ে কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জালের ফেৎনা হতে রক্ষা পাবে।”

৯। নবীর (ﷺ) এর ওপর বেশি বেশি দরূদ পড়া (*ইবন মাজাহ ১০৮৫,*আবু দাউদ ১০৪৭)

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট