শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে তিনটি জিনিস: ড. মুহাম্মদ ইউনূস  

শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে তিনটি জিনিস: ড. মুহাম্মদ ইউনূস  

তিনটি জিনিসকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একটি দারিদ্র্য, একটি বেকারত্ব এবং আরেকটি হল পৃথিবী থেকে কার্বন দূষণ দূর করা।

বুধবার ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে চতুর্থ গ্লোবাল উইমেন ডেলিভার কনফারেন্সে তিনি এ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য উদ্ভাবনী অবদানের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসকে উইমেন ডেলিভার সম্মাননা দেওয়া হয়।

নিউইয়র্কভিত্তিক এনজিও উইমেন ডেলিভার আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ইনভেস্ট ইন গার্লস অ্যান্ড উইমেন-ইট পেইস’। সম্মেলন আয়োজনে ডেনমার্ক সরকার, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), ইউএন-উইমেনসহ নানা সংস্থা ও সংগঠন সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

এভরিবডি উইনস’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে মুহাম্মদ ইউনূস জানান, দারিদ্র্য মানবসমাজে বসবাস করতে পারে না। তাকে জাদুঘরে পাঠাতে হবে। এতে নারীরা বেশি লাভবান হবে, কেননা নারীরা বেশি দারিদ্র্যের শিকার।

ইউনূস বেকারত্বকে কৃত্রিম ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে জানান, শিক্ষা পদ্ধতির কারণে ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খোঁজে। তাঁরা ভাবে চাকরি পাওয়াই জীবনের একমাত্র গন্তব্য। অথচ চাকরি কোনো গন্তব্য হতে পারে না। তাদের উদ্যোক্তা হতে হবে। এটিই গন্তব্য।

ইউনূসের মতে, সবাই উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ হলে আজ থেকে ৩০ বা ৩৫ বছর পরে ছেলে মেয়েরা বেকারত্ব কাকে বলে তা বুঝতেই পারবে না।

ইউনূসের মতে, দারিদ্র্য ও বেকারত্বকে শূন্যের কোঠায় নামানোর পাশাপাশি কার্বন দূষণকেও শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।

আলোচনায় ইউনূস সেন্টারের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ মডেল, গ্রামের নারীদেরও গ্রামীণ ফোনের মুঠোফোন ব্যবহার, সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, গর্ভবতী নারীদের কাছে আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা নিয়ে যাওয়া, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় সরাসরি চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়াসহ নানান উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসা শুরু করার কারণে অন্যান্য কোম্পানি কীভাবে এগিয়ে আসছে সে কথাও জানান।

তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে ইউনূস জানান, তোমরা কখনো চাকরির পেছনে ঘুরবে না। এতে সব ধরনের প্রতিভা ধ্বংস হয়ে যায়।’ চাকরি বা জব কে তিনি পুরোনো ফ্যাশন হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। মুহাম্মদ ইউনূস যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন বিশাল মিলনায়তনে শুধু হাততালির শব্দ।

টেকনোলজি এবং আর্থিক সহায়তা এবং সঠিক তথ্য এক সঙ্গে পেলে নারীদের এগিয়ে যাওয়া সহজ হয় বলেও মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন।

এ সেশনে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে দি মেরি রবিনসন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ান জেনসেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ্যানে বিরগিট এলব্রেক্টসেন, জাতিসংঘ শিশু তহবিলের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক, ইরিকসনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেন্স ভেস্টবার্গ।

সেশনের শেষ পর্যায়ে স্কুলের পোশাক গায়ে ভারতের মাপেট চামকি সবাইকে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার এবং ভালো করে হাত ধোয়ার আহ্বান জানায়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট