ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে সংসদে আলোচনা সমীচীন নয়

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে সংসদে আলোচনা সমীচীন নয়

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা এখতিয়ার বহির্ভূত। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের আয়োজনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এমন মত দেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলেন, রাষ্ট্রের অন্য কোন বিভাগ দ্বারা বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুন্ন হলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষ আস্থাহীন হয়ে পড়ে।

এ সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও তাগিদ দেন তারা।

গোলটেবিল বৈঠকের সঞ্চালক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৫৩, ৬৩, ও ১৩৩ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যাবে না। এই বিধি সংসদপ্রণীত একটি আইন। সংসদ সদস্যরা নিজরাই তাঁদের করা এই আইন মানেন না। এটা দুঃখজনক।

শাহদীন মালিক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রায়ের আলোচনার এখতিয়ার সংসদ সদস্যদের নেই। এটি নিয়ে আলোচনা করে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের নিয়মকানুন ভঙ্গ করেছেন। তিনি সংসদের ওই আলোচনা ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করে সংসদ সদস্যদের দেখার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, তাহলে উপলব্ধি হবে, তাঁরা আসলে কী করেছেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, কোনো দেশের বিচারব্যবস্থা সে দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার বাইরে নয়। এটা সব আমলেই যা ছিল এখনো তা-ই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা এ জন্যই বারবার বলা হয়, যাতে রাষ্ট্রের শক্তিশালী ব্যক্তিটির সঙ্গে সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটিও ন্যায়বিচার পায়।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক