সংলাপের মধ্যে আবার আন্দোলনের ডাক কেন: প্রধানমন্ত্রী

সংলাপের মধ্যে আবার আন্দোলনের ডাক কেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এজন্য অপমান সয়েও দেশের মানুষের কথা ভেবে সংলাপে বসেছি। তাদের বক্তব্য শুনেছি, সংবিধান মেনে যতোটুকু সম্ভব তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা যখন সংলাপে বসছে তখনই আবার আন্দোলনেরও ডাক দিচ্ছে। এটা কিভাবে দেখবো? সেটা দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম।

জাতীয় চার নেতার হত্যা দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া এদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করেছেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের পূনর্বাসন করেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের নানা সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। রাজাকার আল বদরদের মন্ত্রি এমপি করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছেন জিয়া-এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনকের খুনিদের রক্ষা করেছেন জিয়া। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন। দূতাবাসে চাকরির ক্ষেত্রে তখনকার যোগ্যতা ছিল খুনি-রাজাকার-আলবদর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা-ভাই-ভাবীকে খুন করার পর আমাকে আমার বোনকে দেশে আসতে দেওয়া হয়নি। আমি বাবা হত্যার বিচারটুকুও চাইতে পারি নি। আওয়ামী নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিদেশে থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী বানিয়েছে। তাঁদের ত্যাগ, সমর্থন সবসময় আমার সঙ্গী।

আলোচনা সভায় তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিকল্পধারা সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যারা এসেছেন তাদের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে। সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে।

তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনর নেতৃত্বে যারা এলেন তাদের দাবি সংসদ বিলুপ্ত করে নির্বাচন করতে হবে। এটা কেমন কথা। অন্যান্য দেশে বিশেষ করে ভারতেও তো সংসদ রেখেই নির্বাচন হয়। তবে আমাদের এখানে কেন সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।

দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে ফের ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের যে অভিযাত্রা চলছে সেটি অব্যাহত রাখতে হবে। এই যাত্রায় যেন ছেদ না পড়ে সেজন্য ফের আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতীয় চার নেতা জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা দেশের স্বার্থে শত্রুর সঙ্গে আপোষ করেন নি। তাঁরা ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করেছেন। তাঁরা জীবন দিয়েছেন তবু আপোষ করেন নি। তাঁরা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।

নাসিম বলেন, আজকে আফসোস হয় বাংলাদেশের একজন বর্ষীয়ান নেতা (ড. কামাল) কোন লোভে পরে কোন ভয়ে খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তাদের পূনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করে প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা তাঁর সঙ্গে আছি। জাতীয় চার নেতা যেমন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেঈমানি করেন নি। তেমনি আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে আছি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রমুখ।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট