সহায়ক সরকার হলে আ.লীগের অনেকে জামানত হারাবেন : মির্জা ফখরুল

সহায়ক সরকার হলে আ.লীগের অনেকে জামানত হারাবেন : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেছেন, নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন দেখা যাবে কার কতটুকু জনপ্রিয়তা আছে। সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আপনাদের অনেকেরই জামানত হারাতে হবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করে। আর আমাদের সভা সমাবেশ করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। তাদের ইচ্ছা হলে সমাবেশ করতে দেয়। না হলে দেয় না। এটা তাদের কেমন গণতন্ত্র? গণতন্ত্রের উপর ভর করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্রকে হরণ করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দিয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা আইনে নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। কারণ আপনাদের অগণতান্ত্রিক সদস্যদের দিয়ে এ গঠনতন্ত্র তৈরি করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা শিল্পনগরী এলাকায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। বিএনপির প্রাণ হলো এদেশের কোটি জনগণ। বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সরকারের হাতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম ও খুন হয়েছে। তারপরও কেউ এ দল ছেড়ে যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, আতাউর রহমান খাঁন আঙ্গুর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খসরু, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল হাই রাজু, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ও বিএনপি নেতা অলিউর রহমান আপেল, রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান হুমায়ন, সোনারগাঁও পৌরসভা বিএনপির সভাপতি এম এ জামান প্রমূখ।

এসময় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রধান বিচারপতিও অভিযোগ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কারণ খালেদা জিয়া সভা সমাবেশে বক্তব্য দিলে তাদের ভোট নষ্ট হয়ে যায়। সেজন্য তার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। তাদের মন কতো ছোট খালেদা জিয়া বিদেশে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে যাওয়ার পর থেকে তারা বিভিন্ন কল্পকাহিনী তৈরি করছে। বিদেশে গিয়ে কারো সাথে খালেদা জিয়ার আঁতাত করতে হবে না। এদেশের জনগণই বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম কর্মীরা সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে পারছে না। এ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের এ সরকারকে পরাজিত করে গণতন্ত্রকে পূর্ণপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট