‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’য় রুহানির ভাষণ: সহযোগিতা বিস্তারে ইরানের ভূমিকা

‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’য় রুহানির ভাষণ: সহযোগিতা বিস্তারে ইরানের ভূমিকা

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি কিরঘিজিস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। কিরঘিজিস্তানের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি ওই সম্মেলনে যোগ দেন।

রাশিয়া, চীন, কিরঘিজিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ১৩ ও ১৪ জুন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট বিশকেক শীর্ষ সম্মেলন শেষে এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ৫ম ‘সিকা’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য তাজিকিস্তানের রাজধানী দোশাম্বের উদ্দেশ্যে রওয়ান হন। এশিয়ার যে দেশগুলোকে নিয়ে এ দুই জোট গঠিত হয়েছে তারা পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টির উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যএশিয়ায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান কৌশলগত দিক থেকে এ দুই আঞ্চলিক জোটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বিশকেক সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট সন্ত্রাসবাদ রোধ এবং মার্কিন হস্তক্ষেপে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারীদের মোকাবেলা করার জন্য সবার সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইরানের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “ইরাক ও সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইরান যুদ্ধ করেছে, আফগানিস্তানে উগ্রপন্থীদের মোকাবেলায় জাতিসংঘকে ইরান সহযোগিতা করেছে এবং বর্তমানে ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তার দেশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হোসেন অসুভ আলিয়েভ মধ্যএশিয়া ও কাস্পিয়ান সাগর উপকূলীয় এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে মার্কিন ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার কারণে গোটা ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।” মধ্যএশিয়া ও ককেশিয় অঞ্চল বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক কুজেগার কালাজি বলেছেন, আর্থ-রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, চোরাচালান ও অবৈধ অর্থ উপার্জন মোকাবেলায় এ দেশগুলো ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া, জ্বালানি ক্ষেত্রেও রয়েছে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা। এ অবস্থায় ইরান এ জোটের পর্যবেক্ষক দেশ হলেও জোটের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যএশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এ দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। উন্মুক্ত সাগরের সঙ্গে মধ্যএশিয় ও ককেশিয় অঞ্চলের দেশগুলোর সংযোগ স্থাপন ও ট্রাঞ্জিট সুবিধার জন্য ইরান গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায়ও ইরানের মূল্যবান অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা বিনিময় নিঃসন্দেহে ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’ ও ‘সিকা’ ভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট