সিংহীর কোলে আদরে আছে হরিণ ছানা

সিংহীর কোলে আদরে আছে হরিণ ছানা

পশু কথাটা থেকেই এসেছে পাশবিক৷ মানুষ থেকে এসেছে মানবিক৷ কিন্তু বর্তমান সমাজ বোধহয় এখন আর এই কথা গুলোকে অতটা গুরুত্ব দেয়না৷ হিসাব উল্টে যাচ্ছে দিন দিন৷ জাতিভেদ আর সংঘর্ষে মানুষ যখন জেরবার৷ তখন পাশবিকতার নমুনাটা একবার দেখে নিন৷

মানুষ আর প্রানীর বোধহয় এখনও এই তফাৎটা থেকে গিয়েছে৷ এক সিংহীর সঙ্গে হরিণ শাবকের ছবিগুলি দেখলে মনে হতেই পারে খাবারের আগে পৈশাচিকতার নমুনা রেখে জ্যান্ত খাবারের সঙ্গে খেলছে সিংহী৷ না গল্পটা একেবারেই সেরকম নয়৷ নামিবিয়ার ইতোশা ন্যাশনাল পার্কে এক সিংহী দত্তক নিয়েছে এক হরিণ ছানাকে৷ মাতৃস্নেহে লালন পালন করছে তাকে৷ সিংহীর নিজের শাবক ছিল৷ সেই শাবকদের মেরে ফেলেছে আরেকটি সিংহ৷ যেরকমটা হয়ে থাকে৷ বড় হয়ে এই পুরুষ শাবকরা কর্তৃত্ব ফলাতে পারে দখল নিতে পারে এলাকার তা ভেবেই পুরুষ সিংহটি মেরে ফেলেছ সিংহীর শাবকদের৷ মা সন্তানহারা হয়ে পড়েছে৷

 

সেসময়ই সিংহী তার মাতৃত্ব উজাড় করে দিয়েছে হরিণছানার উপর৷ তাকে নিয়ে খেলছে৷ তাকে চেঁটে পরিস্কার করে দিচ্ছে৷ শুধু কি তাই? এই মা সিংহী তার দত্তকি হরিণছানাকে বাঁচিয়েছে বেশকিছু অন্তঃসত্বা সিংহিদের হাত থেকেও৷ ওরা খাবারের খোঁজে বেরিয়েছিল৷ হরিণ শাবককে দেখেই তাকে খাবে বলে এগিয়ে আসতেই তার নতুন মা তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাকিদের উপর৷ আর মা যখন সন্তানকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেয় তখন তাকে ঠেকাবে কে?

তারই ছবি ধরা পড়েছে ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায়৷ নিউইয়র্কের ফটোগ্রাফার গর্ডন ডোনোভ্যানও এই ছবি তুলতে গিয়ে অবাক হয়ে গিয়েছেন৷ তিনি প্রথমে মনে করেছিলেন খাবার করার আগে একটু রসিয়ে নিতে চাইছে সিংহী৷ কিন্তু না৷ তিনি জানান ” সিংহীটি যখন পায়ের মাঝে রেখে স্প্রিংবকটিকে ধরেছিল, চাঁটছিল, আমি তখন ভাবি এবার সেই খতম করার মূহুর্তটা আসবে৷ কিন্তু আশ্চর্য সে সময়ের অপেক্ষা করলেও তা আসেনি৷ স্প্রিংবকটিকে মারেনি সিংহীটি৷ বরং তাকে পরিস্কার করে দিয়েছে, তার সঙ্গে খেলছে শত্রুর হাত থেকে তাকে রক্ষাও করছে সিংহী৷ এটাই প্রকৃতির আশ্চর্য৷ কোথায় কখন কি হবে কেউ জানেনা৷ ” তিনি আরও বলেন “এরকমই কিছু মুহুর্তের জন্য আমি অপেক্ষা করেছি যখনই আমি আফ্রিকা গিয়েছি৷ “

৫৩ বছরের গর্ডন নামিবিয়ার এই এটোশা ন্যাশনাল পার্কে এসে এক গাইডের কাছে জানতে পারেন সিংহীটিকে একটি সিংহর সঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ কিন্তু সেই প্রভাবশালী সিংহটি সিংহীর পুরুষ শাবকদের মেরে ফেলে৷ এরপরই মাতৃস্নেহে হরিণটিকে দত্তক নেয় সে৷ রক্ষা করতে থাকে দখাশোনা করতে থাকে৷ টানা দুঘন্টা ধরে গর্ডন প্রত্যক্ষ করেন এই স্নেহ, দাবি তাঁর৷

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট