সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঐক্য গঠন চান রাষ্ট্রপতি

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঐক্য গঠন চান রাষ্ট্রপতি

অসাধু ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর সব ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সব সংগঠন ও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের ঐক্য আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে সাধারণ মানুষের ঐক্য নেই।’

শনিবার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ১৩তম সমাবর্তনে তিনি এ কথা বলেন।

‘প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ টাকা, কিন্তু দুই মাসের মধ্যে তা হয়ে গেল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। তারপরও মানুষ এখনো উচ্চ দামে পেঁয়াজ কিনছে,’ বলেন তিনি।

জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত এবং শুধুমাত্র জনগণই এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যদি দাম আপনার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে না থাকে তাহলে পেঁয়াজের ব্যবহার বাদ দিতে হবে। ‘পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য। যদি আমরা এক মাস পেঁয়াজ না খাই তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবে।’

বাজারে পেঁয়াজ, লবণ ও অন্যান্য পণ্য ছিল না জানিয়ে অনেক ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এসব কথা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাজারে পেঁয়াজ বা লবণে ঘাটতি থাকার কোনো গুজবে কান না দিতে প্রত্যেকের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা এসব গুজবের সুফল নিচ্ছেন। ‘তাই, এসব অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আপনাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

শিক্ষা খাত নিয়ে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা। কারণ গুণগত শিক্ষা ছাড়া শিক্ষা মূল্যহীন। তাই উচ্চশিক্ষা যাতে কোনোক্রমেই সার্টিফিকেটসর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

‘জাতির উন্নয়ন, উন্নত সমাজ গঠন ও বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সচেতন। দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মাথায় রেখে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর,’ যোগ করেন তিনি।

সমাবর্তন বক্তা জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতিসংঘের অষ্টম মহাসচিব হিসেবে আপনি বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য, জ্বালানি ও পানিসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের উদ্যোগী করতে আপনার পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয়।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

সমাবর্তনে মোট ৩ হাজার ২৫০ জন গ্রাজুয়েট অংশ নেন। চারজন শিক্ষার্থী রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ