‘সিরিজ জিততে পরের ম্যাচে সব শুধরে নিতে হবে’

‘সিরিজ জিততে পরের ম্যাচে সব শুধরে নিতে হবে’

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের আগ মুহুর্তে হঠাৎ করে দুবাইতে উড়িয়ে নেওয়া হয় ইমরুল কায়েসকে। খুলনা থেকে ঢাকা, সেখান থেকে দুবাই হয়ে আবুধাবি। এতটা পথের ভ্রমণক্লান্তিকে দূরে ঠেলে দিয়ে খেলতে নেমে যান মূল একাদশে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েই দলের চরম বিপর্যয়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি।

গতকাল আবারও তেমনি একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ইমরুল। জিম্বাবুয়ের বোলারদের গতিতে যখন নাকাল টাইগার ব্যাটসম্যানরা। তখন ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান বাঁহাতি এই ওপেনার। উপযুক্ত সঙ্গীর অভাবে শুরুতে নার্ভাস অনুভব করলেও পরে নিজের অনুপ্রেরণায় খুঁজে নেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই আবুধাবির ইনিংসটি।

সেটি থেকে শিক্ষা নিয়েই দায়িত্বশীল হয়ে উঠেন ইমরুল কায়েস। ওপেনিং করতে নেমে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়ে গিয়েছেন এই ওপেনার। ১১৮ বলে তুলে নেন নিজের ‍তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তাছাড়া ১৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে এনে দেন স্বস্তির পুঁজি। তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ভর করেই ২৮ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং নিয়ে ইমরুল বলেন,‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি কি করতে পারি, কি পারি না, অনেক কিছু জেনেছি ওই ইনিংস থেকে। আজকে ব্যাটিংয়ের সময় ওই ইনিংসটার কথা বারবার মনে করছিলাম। ওরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে যদি ভালো কিছু করতে পারি, তাহলে নিজেদের কন্ডিশনে আরও ভালো কিছু করতে পারব।’

তবে এত দ্রুত উইকেট পড়ায় প্রথমে বেশ ভয়ও পেয়ে গিয়েছিলেন ইমরুল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘শুরুটা কিন্তু যা চাচ্ছিলাম তা হচ্ছিল না। একটা সময়ে স্ট্রাগল করতে হয়েছে। ড্রাইভ খেলা যাচ্ছিল না। যেকোনো সময় বল লাফ দিচ্ছিল। আমি যখনই চিন্তা করছিলাম যে স্টোক খেলব তখনই একটা করে উইকেট ডাউন হচ্ছিল। তখন আবার নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলাম। আমি চেষ্টা করছিলাম শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করি দেখি কি হয়। আমি ব্যাটিং করে বুঝছিলাম ২৪০-৫০ ওখানে ভালো স্কোর। সো ওভাবেই ব্যাটিং করছিলাম। এজন্য শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছি ওভাবেই সাকসেসফুল হয়েছি।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে ৭২ রানের ইনিংস। দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৪ রানের ইনিংস। রান সংখ্যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস দ্বিগুন আর ক্যারিয়ার সেরা হলেও ইমরুলের কাছে সেরা এশিয়া কাপের ইনিংসটি। আফগানদের বিপক্ষে সেই ইনিংসটিকেই সেরা হিসেবে মেনে নিয়েছেন তিনি।

‘এশিয়া কাপের সেই ইনিংসটিকে আমার ক্যারিয়ারের ভালো একটা ইনিংস হিসেবে রাখব। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস অনেক দরকার ছিল। আটলিমেটলি নিজে ভালো খেললে দলের কাজ হয়ে যায়। আজকের ইনিংসটির জন্য বাংলাদেশ দল সেভ হয়ে গেছে। এটার জন্য আলহামদুলিল্লাহ।’

দেশের হয়ে খেলাটা অনেক সম্মানের ইমরুলের কাছে। তার চেষ্টা সুযোগ পেলে শতভাগ দেওয়ার।

তিনি বলেন,‘আমি যখন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাই তখনই নিজেকে লাকি মনে করি। দেশের হয়ে খেলা অনেক সম্মানের। যখনই সুযোগ পাই তখনই শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। কখনো সফল হই কখনো হই না। বাট আমি আমার পরিশ্রম এবং সবকিছু শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি

অন্যদিকে  জিতেও শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারছেন না অধিনায়ক মাশরাফী, উন্নতির জায়গা দেখছেন অনেক। ম্যাচ সেরা ইমরুল কায়েস বলছেন- সিরিজ জিততে পরের ম্যাচে এ সব শুধরে নিতে হবে।

পছন্দের পজিশনে ফিরে দারুন সেঞ্চুরি আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বলেছেন ইমরুল। আর জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক বলছেন পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট