সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে সরকার : শেখ হাসিনা

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে সরকার : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, যারা দুর্নীতিতে অভ্যস্ত তারা দেশের উন্নতি করতে পারে না।

শনিবার গণভবনে লাওন ও লিও সমাবেশে একথা বলেন তিনি। বিশ্বদরবারে আজ যেকোনো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জয়ী হবার মত যোগ্যতা অর্জন করেছে উল্লেখ কোরে, সবাইকে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭১ সালে আমাদের শরণার্থীদের কথা স্মরণ করেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা তাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি বলেন, সীমান্তে যখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কষ্ট করছিল, তখন আমার ছোট বোন রেহানা আমাকে বললল, তুমি যদি দেশের ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারো, তাহলে এই রোহিঙ্গাদের খাওয়াতে পারবে না? তখন আমি বলি- অবশ্যই পারবো, প্রয়োজনে আমরা নিজেদের খাবার ভাগ করে খাবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলেছে, কিন্তু প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, শুরু হবে।

লায়ন ও লিওদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেয়া যায়, আমাদের লক্ষ্য দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, আপনারা যেভাবে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তা অব্যাহত রাখবেন। আপনাদের অভিনন্দন। বিশেষ করে লিওদের বলছি, তোমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তোমরাই দেশের আগামীর ভবিষ্যৎ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কাজ শুরু করেছিলেন, আমরা সেই সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে উন্নত দেশে উন্নীত করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে জাতি দেশের জন্য জীবন দিতে পারে তাঁরা কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবেই।

তিনি বলেন, আজকে দেশ সব দিক দিয়েই এগিয়ে গেছে। দেশকে উন্নত করতে হলে সব দিক দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। একটি দেশকে উন্নত করার জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা থাকা দরকার। আর আমরা সেটাই করছি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় বাংলাদেশকে বাজেটের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হত। এখন বাজেটের ৯০ শতাংশ আসে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। মুদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোনিবেশ করি। কিন্তু ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিদ্যুৎ উৎপাদন যেখানে রেখে গিয়েছিলাম সেখান থেকে কমে গেছে। আমি বুঝলাম না কিভাবে তা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ফের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করলাম। যার ফলে বর্তমানে ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায়। ২০২১ সালে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরা শুধু লুটপাট করতে জানে। তাঁরা জানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করতে, মানুষ মারতে। এদের হাতে রক্ত লেগে আছে।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এলজিইডির মাধ্যমে সারাদেশে ৪ লাখ ৩৪ হাজার সড়ক করেছি। আর সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের মাধ্যমে নির্মাণ করেছি ১ লাখ ২২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা।

প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ ভাগ ছাড়িয়ে গেছে। আর মুদ্রাস্ফীতি করে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

দেশের মানুষের গড় আয় বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মানুষের মাথাপিছু আয় ১৭৫১ মার্কিন ডলার।

পদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সার্টিফাই করেছে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট