স্পর্শে থাকুক প্রাণের ছোঁয়া

স্পর্শে থাকুক প্রাণের ছোঁয়া

ছোঁয়া এবং স্পর্শ! শব্দ দু’টি আপাত দৃষ্টিতে এক মনে হলেও বোধকরি অনেকের মতে কিঞ্চিৎ পার্থক্য রয়েছে।যদিও শব্দ দু’টির  স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা নেই।তবুও এর মহাত্ম বুঝতে হলে বা এপ্রসঙ্গে আলোচনা করতে হলে বেশ খানিকটা জল ঘাটতে হবে।তবে অতোটা জল না ঘাটলেও ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু কথা তো বলা যেতেই পারে।

‘তোর নামে মন ছুঁয়ে যায়’ কিম্বা ‘সে আমার মন ছুঁয়েছে’! আসলেই কি মন ছুঁয়ে যায় বা মন কি সত্যিই ছোঁয়া যায়? কিন্তু ভাললাগার কথা জানাতে,ভালবাসার অনুভুতি বোঝাতে আমরা এই ছোঁয়া বা ছুঁয়ে যাওয়া শব্দ দু’টি প্রায়শই বলে থাকি।তারমানে হচ্ছে ছোঁয়া শব্দটি হৃদয় ঘটিত।এজন্য বাস্তবিক বা দৃশ্যত কোন আকারের প্রয়োজন নাও হতে পারে।তাই ছোঁয়ায় ছুঁয়ে থাকা যায় অনেকক্ষণ,অনেকদিন। কখনো তা দীর্ঘায়িত হয়ে পার হয়ে যায় যুগের পর যুগ।

অন্যদিকে স্পর্শ ক্ষনিকের।তাই এর আয়ু স্বল্পকালীন।তবে এর অভিব্যাক্তি অনেক গভীর।কেউ কেউ ক্ষনিকের একটুখানি স্পর্শকেই আমৃত্যু বাঁচিয়ে রাখে মনে।আর সবার অজান্তে সে স্পর্শকে ছুঁয়ে নিজেও বেঁচে থাকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

আঙ্গুলের আলতো স্পর্শ বাদ্যযন্ত্রকে ছুঁয়ে গেলে সুরের যে মূর্ছনা তৈরী হয় তার অনুরনন ঘটে হৃদয়ে।কোনো কথা না বলেও যে অনেক কথা বলে ফেলা যায় একটু ছুঁয়ে দিলেই৷ তাই বোধহয় রবী ঠাকুর রচনা করে গেছেন-“একটুকু ছোঁয়া লাগে,একটুকু কথা শুনি/তাই নিয়ে মনে মনে,রচি মম ফাল্গুনি/”

তারমানে স্পর্শ দিয়ে যেমন হৃদয় ছুঁতে হয়।তেমনি একটুকু ছোঁয়া দিয়েই হৃদয় স্পর্শ করা যায়। তাই হয়ত স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখা প্রকাশের ওয়েবসাইট হেলথ গাইডেন্স এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের স্পর্শ একটি শক্তিশালী নিদান। যা কোটি টাকা দিয়েও কেনা যায় না৷

অপরদিকে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ছোঁয়াচে রোগ বলা হয়ে থাকে।যা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় বলে যত কাছেরই হোক না কেন  আক্রান্ত ব্যাক্তি আমরা তাকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।আবার কিছু রোগের উপশমে স্পর্শ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।যেমন-মলম,মালিশ ইত্যাদিতে হাতের স্পর্শ লাগে।বেদনাপূর্ণ দেহে ক্ষনিকের আরামের জন্যও কারো হাতের স্পর্শের প্রয়োজন।

কিছু ছোঁয়ায় একজনের থেকে আরেকজনের মনের জোর বেড়ে যায়।শক্তি সঞ্চারিত হয়।সে ছোঁয়া কিন্তু মামুলি কোন ছোঁয়া নয়।এ ছোঁয়া এক চরম শক্তির ভান্ডার।আবার ছোট্ট একটি স্পর্শ দিয়েই আমরা প্রানবন্ত করে নিতে পারি আমাদের রোজকার জীবন।রাঙিয়ে তুলতে পারি আমাদের প্রিয়জনকে।মায়ের মমতার ছোঁয়া,সন্তানের স্পর্শ,ভালবাসার ছোঁয়া এসবই আমাদের জীবনকে সুখি করতে অনেক বেশি মূল্যবান।

সত্যিই কি তাহলে পার্থক্য রয়েছে ছোঁয়া এবং স্পর্শের মধ্যে? সে যাই হোক না কেন!বিতর্ক না বাড়িয়ে বরং চেষ্টা করি প্রিয়জনের স্পর্শের বৃত্তে থাকতে।রোজ সবাই বাঁচি একে অন্যের প্রাণের ছোঁয়ায়!

 

সম্পর্কিত সংবাদ
তাহমিনা শিল্পী