স্মিথদের মামলার পরামর্শ

স্মিথদের মামলার পরামর্শ

অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে পারিশ্রমিক নিয়ে ঝামেলা কিছুতেই মিটছে না। এক মাসেরও বেশি হয়ে গেল দু’পক্ষের দ্বন্দ চলছে তো চলছেই। কিন্তু মিটমাট হওয়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। মাঝখান থেকে সে দেশের প্রায় ২৩০ জন ক্রিকেটার বেকার হয়ে রয়েছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে যে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের যে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে এবং আসন্ন অ্যাসেজ সিরিজের উপরও তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে, তা মনে করিয়ে দিয়ে সে দেশের ক্রিকেটারদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিলেন।

প্রাক্তন অধিনায়কের বক্তব্য, ‘‘সোমবারের মধ্যে যদি কোনও মিটমাট না হয়, তা হলে ক্রিকেটারদের আইনের সাহায্য নেওয়া উচিত।’’ কিন্তু আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সত্যিই যদি আইনের দরজায় কড়া নাড়েন ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথরা এবং আর্বিট্রেশন শুরু হয়, তা হলে অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন সমস্ত ক্রিকেট সফর বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং সে দেশের ক্রিকেটটাই বিপন্ন হতে পারে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের ই-মেলও করা হয়েছে বলে খবর। এই প্রসঙ্গে ক্লার্ক অস্ট্রেলিয়ার এক টিভি চ্যানেলকে বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড এই পরামর্শ কেন দিচ্ছে আমি জানি না। আমার মনে হয়, ওরা বোকামি করছে। ক্রিকেটারদের না করার কোনও জায়গা নেই। ওদের তো মাঠে ফিরতে হবে।’’

অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ সফর রয়েছে। ওখান থেকে তাদের ভারতে আসার কথা ওয়ান ডে সিরিজের জন্য। ভারত থেকে ফেরার পর ঘরের মাঠে অ্যাসেজ। অ্যাসেজের আগে কোনও সিরিজই ছাড়া চলবে না বলে মনে করেন ক্লার্ক। বলেন, ‘‘অ্যাসেজের আগে যদি আমাদের দল একসঙ্গে কয়েকটা ম্যাচ না খেলে, তা হলে খুব খারাপ ফল হবে। তাই ভারতীয় উপমহাদেশে ওদের যাওয়াটা খুবই জরুরি। এইসব বিতর্কের জন্য যদি আমাদের ছেলেরা খেলতে না পারে, তা হলে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু থাকবে না।’’

ক্লার্কের ধারণা, ‘‘স্মিথরা যদি আদালতে যায়, তা হলে ওদের জয় অবধারিত। তবে মামলা হোক বা না হোক, এর ফলে যে বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সমস্যা মিটলেও একটা দূরত্ব থেকেই যাবে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের ক্রিকেটারদের যে মডেল অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে চাইছে, তা মানতে রাজি নন স্মিথরা। আগে মোট আয়ের ভাগ দেওয়া হত ক্রিকেটারদের। এখন থেকে আয়ের উদ্বৃত্তের ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বোর্ড। ১১ অগস্ট থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি শিবির শুরু হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই তাদের ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল হয়ে গিয়েছে। এর পর বাংলাদেশ সফরও অনিশ্চিত। ভারত সফর নিয়ে যদিও অনিশ্চয়তার কথা বলেননি বোর্ড বা ক্রিকেটার কেউই। বোর্ড প্রধান জেমস সাদারল্যান্ডের আশা, দু-তিন দিনের মধ্যেই মিটে যেতে পারে সমস্যা। না হলে ভারত সফরও অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে তাদের।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট