হজ্জ এর কিছু প্রয়োজনীয় টিপস : পর্ব-৩

হজ্জ এর কিছু প্রয়োজনীয় টিপস : পর্ব-৩

সম্মানিত হজ্জযাত্রীদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে হজ্জ এর জন্য রওনা দেয়া থেকে শুরু করে ফিরে আসা পর্যন্ত পুরো সময়টা আপনাকে পদে পদে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। হজ্জ ক্যাম্প, বিমান বন্দর, খাবারের দোকান, টয়লেট, সব জায়গাতেই আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে। পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ্‌তাআলা বলেন, “ আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে আছেন”। আপনাকে ধৈর্য্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। হজ্জ ক্যাম্পেই ইমিগ্রেশন সহ বিমান বন্দরের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আপনাদের মালপত্র এখানেই নিয়ে নেবে।

এজন্য এখানে আপনাকে দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। অনেকে লাইন ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ হজ্জ ক্যাম্পে কর্মরত কোন পরিচিত লোকের সুবাদে আগেভাগেই কাজ সেরে নেবার চেষ্টা করেন। এসব করে ওখানকার শৃঙ্খলা নষ্ট করবার চেষ্টা করবেন না। আপনি বরং একটা কাজ করতে পারেন। ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে না থেকে আশে পাশে অনেক চেয়ার পাতা আছে, সেগুলোতে বসে অপেক্ষা করুন । যখন দেখবেন লাইন ছোট হয়ে এসেছে তখন লাইনে দাঁড়ান। আপনাকে ছেড়ে তো আর প্লেন রওনা দিচ্ছে না। জেদ্দা বিমানবন্দরেও আপনাকে অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। বিশেষ করে হজ্জ শেষে ফেরার সময় অনেক বেশি সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়। কারন তখন হাজীদের অনেকক্ষণ ধরে তল্লাশি করা হয়। যেন হাজিরা হজ্জ করে ফিরছেন না, কোন অবৈধ কাজ করে ফিরছেন। এখানেও ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন। যারা লাইন ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হবেন না। যাওয়ার দিন জেদ্দা থেকে মক্কা যাবার বাসে ওঠার আগে বাংলাদেশের হাজীদের জন্য বিমানবন্দরের নির্ধারিত জায়গায় অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এখানে প্রচন্ড গরম এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নাই। তবে বাথরুম ও অজুখানার সুন্দর ব্যবস্থা আছে।

মসজিদুল হারাম, মসজিদুল নববীর চত্বর, মিনা ও আরাফাতে পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা আছে। তবুও এসব জায়গায় আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে। টয়লেটে যাবার প্রয়োজন হবার কিছুক্ষণ আগেই টয়লেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিন, সুশৃঙ্খল ভাবে লাইনে দাঁড়ান এবং বৃদ্ধ, দুর্বল ও অসুস্থ লোককে অগ্রাধিকার দিন। খাবার কিনতে হলেও আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে। সাধারণত জোহরের ও এশার নামাজের পর খাবারের দোকানে প্রচন্ড ভীড় হয়। পারতপক্ষে এই দুটো সময় বাদ দিয়ে খাবার কিনতে যাবেন। এ জায়গাতেও লাইন ভাঙ্গা লোকের দেখা পাবেন। তাদের সাথে তর্কে লিপ্ত না হয়ে ধৈর্য্য ধারণ করুন।

মহান আল্লাহ্‌তাআলা সব হজ্জযাত্রীদেরকে ধৈর্য্য ধারন করে চলবার শক্তি দিন। আমিন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডাঃ রাশেদুল মাওলা