হরিণ হত্যায় দুই বছরের জেল সালমান খানের

হরিণ হত্যায় দুই বছরের জেল সালমান খানের

কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার বৃহস্পতিবার বলিউড অভিনেতা সালমান খানের ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভারতের যোধপুর আদালত।

তাকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সালমানকে রাজস্থান সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হতে পারে। ২০ বছর আগে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার রায় আজ দেয়া হয়েছে।

এটা সালমান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ বটে। গত ১৯ বছর ধরে চলে আসা কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলো তিনি।

এ মামলায় সালমান ছাড়াও সাইফ আলি খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলমের নাম ছিল । তবে সাইফ আলি খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলমকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

এ মামলায় আরও দুজন অভিযুক্ত হলো: ট্রাভেল এজেন্ট দশায়ন্ত সিং ও সালমানের সহকারী দিনেশ গাউরে। গাউরে অবশ্য এখনো পলাতক।

এদিকে, রায় হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে সালমানের আইনজীবী এইচ এম সারস্বত দাবি করেন, সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি। মামলা সাজাতে ভুয়া সাক্ষী দাঁড় করিয়েছেন এমনকি বন্দুকের গুলিতেই যে কৃষ্ণসার হরিণ দুটির মৃত্যু হয়েছিল তাও সরকারি কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি। গত ২৮ মার্চ নিম্ন আদালতে কৃষ্ণসার মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শেষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের দাবি, ১৯৯৮ সালের ১ ও ২ অক্টোবর যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের মাঝে আলাদা আলাদা জায়গায় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন সালমান খান। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলী খান, নীলম, টাবু ও সোনালী বেন্দ্রে।

রাজস্থানের যোধপুরের কঙ্কানি এলাকায় গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিবাসীদের অভিযোগ, গুলির শব্দ শুনে তারা সালমানের জিপসি গাড়িটি ধাওয়া করেন। কিন্তু ধরতে পারেনি তারা ওই সময় চালকের আসনে ছিলেন সালমান খান।

গ্রামবাসীর দাবি, প্রবল গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে সালমান খান আর তার সঙ্গীরা পালিয়ে যান।

বলিউড সূত্রে জানা গেছে, এ মুহূর্তে সালমানের ওপর এক হাজার কোটি রুপির বেশি লগ্নি রয়েছে। গতকাল বুধবার যোধপুর পৌঁছেছেন সালমান খান, টাবু ও সাইফ আলী খান।

বেআইনিভাবে জঙ্গলে ঢোকার অভিযোগে সালমান খান আর অন্য তিন তারকারে বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯ নম্বর ধারাতে মামলা এখনো চলছে।

কবে করা হয় মামলা:

বিগত ১৯৯৯ সালে এ মামলায় দায়ের করা হয়েছিলো।

১৯৯৮ সালে সুরজ বরজাতিয়া পরিচালিত ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির দৃশ্যধারণ চলাকালীন যোধপুরের কাছে কঙ্কনী গ্রামে বিরল প্রজাতির দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। পরে ১৯৯৯ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটির চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছিলো ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। চলতি বছরের ২৪ মার্চ দুই পক্ষের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শেষ হয়। এরপর ০৫ এপ্রিল চূড়ান্ত রায়ের তারিখ ঘোষণা করে যোধপুর আদালত। এদিন সালমান খান ও অন্য অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে রায় দেন প্রধান বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার খাতরি। ২০০৭ সালে যোধপুর জেলে কয়েকদিন ছিলেন সালমান। তারপর জামিনে মুক্ত হন তিনি। গত বছর এ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হন সালমান। কিন্তু এই রায়ের ওপর আবারও আপিল করা হয়।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট