হাইকোর্টের মামলা জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা

হাইকোর্টের মামলা জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা

সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট সংশোধন করে হাইকোর্টে বিচারাধীন ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের দেওয়ানি আপিল ও রিভিশন মামলা জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি পর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৩ মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

একই সঙ্গে ৯০দিনের মধ্যে মামলা স্থানান্তরের বিধান কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা হবে করা না-জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

এর আগে সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট-১৮৮৭ সংশোধন করে দেওয়ানি আদালতের বিচারকদের বিচারিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী এখন একজন সহকারী জজ দুই লাখের পরিবর্তে ১৫ লাখ, সিনিয়র সহকারী জজ চার লাখের পরিবর্তে ২৫ লাখ এবং জেলা জজ ৫ লাখের পরিবর্তে ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

এ আইনের বিধান অনুসারে এখন ৫ লাখের ওপর থেকে ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের যেসব দেওয়ানি মামলায় হাইকোর্টে আপিল হয়েছে, সেগুলো জেলা জজ আদালতে যাচ্ছে। ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের মামলাগুলো এখন জেলা জজ আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।

সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট-১৮৮৭ সংশোধন করে ১২ মে গেজেট জারি করে সরকার। প্রায় ১২৯ বছর পর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুরনো এ আইনের সংশোধন করে।

সিভিল কোর্টস অ্যাক্টের ১৯ ও ২১(১)(এ) ধারা সংশোধন করা হয়। পুরনো আইনের ১৯ ধারায় সহকারী জজদের দুই লাখ টাকা মূল্যমানের এবং সিনিয়র সহকারী জজদের চার লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি মামলা শুনানির এখতিয়ার ছিল। সংশোধিত আইনে এ এখতিয়ার বাড়িয়ে সহকারী জজদের ১৫ লাখ এবং সিনিয়র সহকারী জজদের ২৫ লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি মামলা বিচারের এখতিয়ার দেয়া হয়।

এ ছাড়া আইনের ২১(এ) ধারায় জেলা জজদের আগে ৫ লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির এখতিয়ার ছিল। সংশোধিত আইনে এ এখতিয়ার পাঁচ কোটি টাকা করা হয়।

সংশোধিত আইনে একটি বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯ ধারা সংশোধন হওয়ার কারণে জেলা জজ সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দিয়ে, এ আইন কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন মামলা সংশোধিত এখতিয়ার অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করবেন। যে পর্যায়ে মামলাটি স্থানান্তর হবে, সেই পর্যায় থেকেই ওই মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক